বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০১৫

ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) এর ন্যায় ফকীহগণের মর্যাদা নিয়ে একটি ঘটনা

ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) এর ন্যায় ফকীহগণের মর্যাদা নিয়ে একটি ঘটনা
تدريب الراوي في شرح تقريب النواوي (1/ 32)
وَقَدْ قَالَ الْأَعْمَشُ: حَدِيثٌ يَتَدَاوَلُهُ الْفُقَهَاءُ خَيْرٌ مِنْ حَدِيثٍ يَتَدَاوَلُهُ الشُّيُوخُ.
وَلَامَ إِنْسَانٌ أَحْمَدَ فِي حُضُورِ مَجْلِسِ الشَّافِعِيِّ وَتَرْكِهِ مَجْلِسَ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، فَقَالَ لَهُ أَحْمَدُ: اسْكُتْ فَإِنْ فَاتَكَ حَدِيثٌ بِعُلُوٍّ تَجِدْهُ بِنُزُولٍ وَلَا يَضُرُّكَ، وَإِنْ فَاتَكَ عَقْلُ هَذَا الْفَتَى أَخَافُ أَنْ لَا تَجِدَهُ. انْتَهَى.
আল্লামা সুয়ূতী (রহ.) তার রচিত কিতাব ‘তাদরীবুর রাবী’ এর ০১/৩২ এর মাঝে বিখ্যাত তাবেয়ী ‘আমাশ’ (রহ.) এর উক্তি উল্লেখ করেছেন। 
তিনি বলেন, ‘‘যে সব হাদীস ফুকাহা বা ফেকাহবিদদের মাঝে আলোচিত হয় সেগুলো মুহাদ্দীসদের মাঝে আলোচিত হাদীস থেকে উত্তম।’’
একদা এক ব্যক্তি ইমাম আহমদ (রহ.) এর নিন্দায় বললেন, আপনি কেন (বিখ্যাত ফকীহ) ইমাম শাফেয়ী (রহ.) এর মজলিসে আসা যাওয়া করেন? আর বিখ্যাত মুহাদ্দীস সুফইয়ান ইবনে উয়াইনা এর মাজলিসকে পরিত্যাগ করেন?
ইমাম আহমদ (রহ.) তাকে বললেন, তুমি চুপ কর!! কেননা বিখ্যাত মুহাদ্দিস সুফইয়ান ইবনে উয়াইনা এর মাজলিসে যদি আমি না যাই, তাহলে আমার এতটুকু সমস্যা হতে পারে যে, আমি একটি হাদীস খুব উচ্চ সনদে পাবো না, নিন্ম সনদে গ্রহণ করতে হবে, তাতে কোন সমস্যা নেই। 
কিন্তু এই যুবক (ইমাম শাফেয়ী) এর মাজলিস যদি আমি ছেড়ে দেই, তাহলে আমার ভয় হয় এই জ্ঞান কোথাও পাওয়া যাবে না!!
প্রিয় পাঠক! ইমাম আহমদ (রহ.) এর উক্ত একটি ঘটনা থেকেই ফকীহদের মূল্যায়ন কেমন হওয়া উচিত আর তারা প্রকৃতপক্ষে কত মুল্যবান তা স্পষ্ট ভাবে বুঝা যায়।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের ঐ সব ভাইদের হেদায়াত দান করুন যারা না বুঝে বিখ্যাত মুহাদ্দেস ও ফকীহ ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) এর বিরুদ্ধাচারণ করে থাকে। আমীন

ইতি মুফতী মো. ছানা উল্লাহ

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০১৫

৮ম পর্ব (শেষ পর্ব) : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?

৮ম পর্ব (শেষ পর্ব) : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা
দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?
❖ এ পর্বে  আলোচনা হবে, যে সব কাজ শবে বরাতে নিষিদ্ধ, বেদআত ও এ রাত্র নিয়ে কিছু জাল হাদীসের সমাবেশ-


✏ ০১. শবে বরাত উপলক্ষে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায শরীয়তে নেই সব সময় যেভাবে নামায পড়া হয় সেভাবেই পড়বে অর্থাৎ দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব হয় আদায় করবে এবং যে সূরা দিয়ে সম্ভব হয় পড়বে। এ বিষয়ে বিভিন্ন বই পুস্তিকায় বিভিন্ন ধরনের জাল হাদীস পাওয়া যায়। যেমন-

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০১৫

৭ম পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?

৭ম পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা
দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?
❀ এ পর্বে উল্লেখ করা হবে উক্ত রজনী সম্পর্কে মুহাদ্দীস ও ফুকাহাগণের মন্তব্য (বিশেষ করে আহলে হাদীস/সালাফী ইমামদেরও মতামত) আরো থাকছে এ বিষয়ে রচিত কতিপয় কিতাব।

✏ ০১. শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেবের অভিমত-
سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها (3/ 135)
1144 - وجملة القول أن الحديث بمجموع هذه الطرق صحيح بلا ريب والصحة تثبت بأقل منها عددا ما دامت سالمة من الضعف الشديد كما هو الشأن في هذا الحديث، فما نقله الشيخ القاسمي رحمه الله تعالى في ” إصلاح المساجد ” (ص ১০৭) عن أهل التعديل والتجريح أنه ليس في فضل ليلة النصف من شعبان  حديث صحيح، فليس مما ينبغي الاعتماد عليه. 
অর্থাৎ সারকথা হচ্ছে, (শবে বরাতের ফযীলত সম্পর্কিত) হাদীসটি বহু সূত্রের সমষ্টির কারণে নিঃসন্দেহে সহীহ। কোন হাদীস অত্যাধিক দুর্বলতা থেকে নিরাপদ হলে এর চেয়ে কম সূত্রে বর্ণিত হলেও তা সহীহ বলে প্রমাণিত হয়। আর আলোচ্য হাদীসটি অত্যাধিক দুর্বলতা থেকে মুক্ত। সুতরাং কাসেমী যে তার কিতাব ‘ইসলাহুল মাসাজিদ’এ উল্লেখ করেছেন, “শবে বরাতের ফযীলতের হাদীস সহীহ নয়” তার এ কথাটি নির্ভরযোগ্য নয়। (সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহ-৩/১৩৫, হাদীস-১১৪৪)

৬ষ্ঠ পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?

৬ষ্ঠ পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা
দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?
✏ ০৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) এর হাদীস-(উক্ত রজনীতে দু'আ ফেরত দেয়া হয় না)
مصنف عبد الرزاق الصنعاني (4/ 317)
7927 - قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ: وَأَخْبَرَنِي مَنْ، سَمِعَ الْبَيْلَمَانِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: " خَمْسُ لَيَالٍ لَا تُرَدُّ فِيهِنَّ الدُّعَاءَ: لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، وَأَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَجَبٍ، وَلَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَلَيْلَتَيِ الْعِيدَيْنِ "
❏ অর্থ : আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, পাঁচটি রাত এমন আছে, যে রাতগুলোতে দু'আ ফেরত দেয়া হয় না। জুমআর রাত, রজবের প্রথম রাত, শাবানের পনের তারিখ এর রাত এবং দু'ঈদের রাত। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৪/৩১৭, হাদীস-৭৯২৭, শুয়াবুল ঈমান-৫/২৮৮, হাদীস-৩৪৪০।

বুধবার, ২৭ মে, ২০১৫

৫য় পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?

৫ম পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা
দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?
✏০৭.  হযরত আলী (রা.) এর হাদীস (শবে বরাতের পরদিন রোযা রাখা সম্পর্কে)।

سنن ابن ماجه (1/ 444)
1388 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلَّالُ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ أَبِي سَبْرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، فَقُومُوا لَيْلَهَا وَصُومُوا نَهَارَهَا، فَإِنَّ اللَّهَ يَنْزِلُ فِيهَا لِغُرُوبِ الشَّمْسِ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَقُولُ: أَلَا مِنْ مُسْتَغْفِرٍ لِي فَأَغْفِرَ لَهُ أَلَا مُسْتَرْزِقٌ فَأَرْزُقَهُ أَلَا مُبْتَلًى فَأُعَافِيَهُ أَلَا كَذَا أَلَا كَذَا، حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ "
❐ অর্থ : হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যখন শা’বানের ১৫তম রাত তোমাদের সম্মুখে এসে যায় তখন তোমরা সে রাতে নামায পড় এবং পরবর্তী দিনটিতে রোযা রাখ। কারণ সেদিন সূর্যাস্তের পর আল্লাহ পাক প্রথম আকাশে অবতরণ করেন এবং (বান্দাহদের ডেকে) বলতে থাকেন আছ কি কোন ক্ষমাপ্রার্থী যাকে আমি ক্ষমা করে দেব? আছ কি কোন রিযিক প্রার্থী যাকে আমি রিযিকের ব্যবস্থা করে দেব? আছ কি কোন বিপদগ্রস্ত যাকে আমি বিপদ মুক্ত করে দেব? এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত বলতেই থাকেন, আছ কি কেউ অমুক বস্তুর প্রার্থী? আছ কি কেউ অমুক বস্তুর প্রার্থী? (আমি যার সকল মনোস্কামনা পূর্ণ করে দেব?)-সুনানে ইবনে মাজাহ-১/৪৪৪, হাদীস-১৩৮৮, শোয়াবুল ঈমান,-৩/৩৭৮, হাদীস-৩৮২২-২৩।

মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০১৫

৪র্থ পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?

৪র্থ পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা
দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?
░▒▓█►যয়ীফ হাদীস নিয়ে জরাহ ও তাদিলের প্রসিদ্ধ কয়েকজন মুহাদ্দিস এর অভিমত : 
কতক আহলে হাদীস বলে বেড়াচ্ছেন যে, জইফ হাদীস জাল হাদীসের মত সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাখ্যাত, অথচ গ্রহণযোগ্য মুহাদ্দিসগণের মতে ফাযায়েলে আমল, তারগিব, তারহিব, রাকায়িক ইত্যাদি ক্ষেত্রে জইফ হাদীস গ্রহণযোগ্য। আর তাদেরকে এই উক্তি শুনানো হলে তারা বলে কোন মুহাদ্দেস বলেছেন? নাম বলুন। তাই  নিন্মে জরাহ তাদিলের প্রসিদ্ধ কয়েকজন মুহাদ্দিসের অভিমত পেশ করা হল-

৩য় পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?

৩য় পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা
দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?
❖ উল্লেখ্য যে, বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তার মাঝে চলে আসছে অনেক যয়ীফ হাদীস (যা ফাযায়েলেল ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর আসার আর আমাদের আহলে হাদীস ভাইগণ দুটিকেই নিজ সুবিধে ব্যতীত মানতে আগ্রহী নন। তাই এই পর্বে আলোচনা হবে দুইটি বিষয় নিয়ে এক. সাহবাগণ আমাদের অনুসরণীয় কেন? দুই. যয়ীফ হাদীস নিয়ে আলোচনা।
░▒▓█►০১.সাহবাগণ আমাদের অনুসরণীয় কেন?◄█▓▒░
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর অনুসৃত আদর্শ এবং তাদের উক্তি ও আমল ইলমে হাদীসের কিছু নিয়মনীতি ও শর্তসাপেক্ষে সমস্ত জমহুরে উম্মত, চার মাযহাবের ইমাম ও বিশেষজ্ঞ মুজতাহিদ ইমামগণের নিকট অনুসরণীয়, শরীয়তের যাবতীয় ক্ষেত্রে প্রমাণযোগ্য। মু‘জামু মুসতালাহুল হাদীস, ড. মুহাম্মদ জিয়া আযমী-৫০৭। যফরুল আমানী-৩৩২। আল আজবীব-২২৫।
এ ক্ষেত্রে বিশেষ কয়েকটি শর্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শর্ত হলো, সাহাবাগণের উক্তি ও আমলগুলো পবিত্র কুরআন ও রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হওয়া। সাহাবাগণের এমন উক্তি ও আমলগুলো শরীয়তের দলীল হিসেবে গ্রহণ করার পক্ষে পবিত্র কুরআন ও রাসূল (সা.) এর হাদীসে অসংখ্য দলীল প্রমাণ রয়েছে।