মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

মানুষের সম্মান নিয়ে ইসলামের নিরব ভূমিকা আপনি কি অন্যের বায়ূ নির্গত হওয়াতে হাঁসছেন?

মানুষের সম্মান নিয়ে ইসলামের নিরব ভূমিকা,
আপনি কি অন্যের বায়ূ নির্গত হওয়াতে হাঁসছেন?
❀ মন চাইলো আজ এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে, যা আমাদের সমাজে অনেকেরই অজানা। কেননা বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় অনেক মুরুব্বী মানুষ অধিক বয়সের কারণে নিজকে কন্ট্রোল রাখতে না পেরে, বায়ূ ছেড়ে বসে। আর আমরা যারা আশপাশে আছি তারা হাঁসাহাঁসি শুরু করে দেই। শুধু মুরুব্বী মানুষ নয় বরং অনেক সময় যুবক-যুবতী ও শিশুদেরকেও এই কাজে ভূমিকা রাখতে দেখা যায়।

✿ এখন আলোচনার বিষয় হলো ‘‘অন্যের বায়ূ নির্গত হওয়াতে আপনার জন্য হাঁসাহাঁসি করা ইসলামে বৈধ কি?’’ অনেকেই বলবেন আরে! ইসলাম বুঝি এ বিষয় নিয়েও কোন বিধান রেখেছে? আমি বলবো হ্যাঁ। ইসলাম এ বিষয়েও বিধান রেখেছে। নিন্মে তা বিস্তারিত দেখুন, আর নিজেকে গড়ে তুলুন একজন কোরআন ও সুন্নাহ প্রতি সহীহ আমলকারী।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৫

ঈদকে লক্ষ্য করে কি বলবেন? ‘‘ঈদ মুবারক’’ না অন্য কিছু......

ঈদকে লক্ষ্য করে কি বলবেন? ‘‘ঈদ মুবারক’’ না অন্য কিছু......
❏ ঈদের পূর্বে ও পরে বেশ কিছু দিন জাবৎ চালু থাকে ‘‘ঈদ মুবারক’’ বলে অভিনন্দন/মোবারকবাদ/শুভেচ্ছা। তাই আগ্রহ জাগলো এই বিষয়ে শরীয়ত কি বলে তা নিয়ে কিছু আলোচনা করতে। যাই হোক নিম্মে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

✏ ০১. এ বিষয়ে আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) এর প্রতি প্রশ্ন ও তার জবাব-
مجموع الفتاوى (24/ 253)
وَسُئِلَ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -:
هَلْ التَّهْنِئَةُ فِي الْعِيدِ وَمَا يَجْرِي عَلَى أَلْسِنَةِ النَّاسِ: " عِيدُك مُبَارَكٌ " وَمَا أَشْبَهَهُ هَلْ لَهُ أَصْلٌ فِي الشَّرِيعَةِ؟ أَمْ لَا؟ وَإِذَا كَانَ لَهُ أَصْلٌ فِي الشَّرِيعَةِ فَمَا الَّذِي يُقَالُ؟ أَفْتُونَا مَأْجُورِينَ.
অর্থ : আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) কে জিজ্ঞাসা করা হলো। ঈদের সময় অভিনন্দন জানানো, যেমনি ভাবে মানুষের মুখে প্রচলন রয়েছে যে, ‘‘عِيدُك مُبَارَكٌ’’ (ঈদ মোবারক) অথবা এর সমর্থক কোন কিছু। শরীয়তে এগুলোর কোন ভিত্তি রয়েছে কি? যদি কোন ভিত্তি থাকে তাহলে তা কি? জানিয়ে সাওয়াব প্রাপ্ত হবেন।
فَأَجَابَ:
أَمَّا التَّهْنِئَةُ يَوْمَ الْعِيدِ يَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ إذَا لَقِيَهُ بَعْدَ صَلَاةِ الْعِيدِ: تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ وَأَحَالَهُ اللَّهُ عَلَيْك وَنَحْوُ ذَلِكَ فَهَذَا قَدْ رُوِيَ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْ الصَّحَابَةِ أَنَّهُمْ كَانُوا يَفْعَلُونَهُ وَرَخَّصَ فِيهِ الْأَئِمَّةُ كَأَحْمَدَ وَغَيْرِهِ. لَكِنْ قَالَ أَحْمَد: أَنَا لَا أَبْتَدِئُ أَحَدًا فَإِنْ ابْتَدَأَنِي أَحَدٌ أَجَبْته وَذَلِكَ لِأَنَّ جَوَابَ التَّحِيَّةِ وَاجِبٌ وَأَمَّا الِابْتِدَاءُ بِالتَّهْنِئَةِ فَلَيْسَ سُنَّةً مَأْمُورًا بِهَا وَلَا هُوَ أَيْضًا مِمَّا نُهِيَ عَنْهُ فَمَنْ فَعَلَهُ فَلَهُ قُدْوَةٌ وَمَنْ تَرَكَهُ فَلَهُ قُدْوَةٌ. وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.
অর্থ : তিনি উত্তরে বললেন। ঈদের দিন অভিনন্দন জানানো ও একজন অন্য জনকে ঈদের নামাযের পর সাক্ষাত হলে ‘‘ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ’’ বলা ও ‘‘أَحَالَهُ اللَّهُ عَلَيْك’’ বলা; বা এর সামর্থক কিছু বলা, এগুলো সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর একটি দল থেকে সাব্যস্ত রয়েছে; তাদের মাঝে এমন প্রচলন ছিল।
এ বিষয়ে ইমাম আহমদ (রহ.) সহ অন্যরাও ছাড় দিয়েছেন। কিন্তু ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন, আমি কাউকে অভিনন্দন জানাই না; যদি কেউ আমাকে দিয়ে শুরু করে তাহলে আমি জবাব দিয়ে থাকি। কেননা অভিনন্দন এর জবাব দেয়া ওয়াজিব। আর অভিনন্দন দিয়ে শুরু করা এটি প্রচলিত কোন সুন্নাত না; আর এর থেকে নিষেধ করা হয়েছে এমন কিছুও না। যে করবে সে তার আদর্শের উপর থাকলো আর যে করবে না সেও তার আদর্শের উপর থাকলো। وَاَللَّهُ أَعْلَمُ মাজমুউল ফাতওয়া-২৪/২৫৩।

ঈদের খুৎবা মিম্বরে দেয়া সুন্নাত। যা সহীহ বুখারীসহ একাধিক কিতাব দ্বারা প্রমাণিত

ঈদের খুৎবা মিম্বরে দেয়া সুন্নাত। যা সহীহ বুখারীসহ একাধিক কিতাব দ্বারা প্রমাণিত
❏ বর্তমানে কথিত আহলে হাদীস এর কতক শায়খ বলে বেড়াচ্ছে যে, মিম্বরের উপর ঈদের খুৎবা দেয়া বেদআত! কারণ সহীহ বুখারীর ৯৫৬নং হাদীস; যা হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত। তাতে ঈদের আলোচনা এসেছে সেখানে রাসূল (সা.) খুৎবা মিম্বারে দিয়েছে এই কথাটি উল্লেখ নেই। তাই এটি বেদআত....

✏ তাদের এই সব দলীল শুনলে আমার খুব দুঃখ লাগে। কেননা যেই হাদীসের প্রথম অংশ দিয়ে তারা মিম্বরে খুৎবাকে বেদআত বলে ঐ হাদীসের শেষ অংশের মাঝেই মিম্বরে খুৎবা দেয়ার আলোচনা রয়েছে। তাহলে দেখুন হাদীসটি-
صحيح البخاري (2/ 17)
بَابُ الخُرُوجِ إِلَى المُصَلَّى بِغَيْرِ مِنْبَرٍ
956 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ وَالأَضْحَى إِلَى المُصَلَّى، فَأَوَّلُ شَيْءٍ يَبْدَأُ بِهِ الصَّلاَةُ، ثُمَّ يَنْصَرِفُ، فَيَقُومُ مُقَابِلَ النَّاسِ، وَالنَّاسُ جُلُوسٌ عَلَى صُفُوفِهِمْ فَيَعِظُهُمْ، وَيُوصِيهِمْ، وَيَأْمُرُهُمْ، فَإِنْ كَانَ يُرِيدُ أَنْ يَقْطَعَ بَعْثًا قَطَعَهُ، أَوْ يَأْمُرَ بِشَيْءٍ أَمَرَ بِهِ، ثُمَّ يَنْصَرِفُ» قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: «فَلَمْ يَزَلِ النَّاسُ عَلَى ذَلِكَ حَتَّى خَرَجْتُ مَعَ مَرْوَانَ - وَهُوَ أَمِيرُ المَدِينَةِ - فِي أَضْحًى أَوْ فِطْرٍ، فَلَمَّا أَتَيْنَا المُصَلَّى إِذَا مِنْبَرٌ بَنَاهُ كَثِيرُ بْنُ الصَّلْتِ، فَإِذَا مَرْوَانُ يُرِيدُ أَنْ يَرْتَقِيَهُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ، فَجَبَذْتُ بِثَوْبِهِ، فَجَبَذَنِي، فَارْتَفَعَ، فَخَطَبَ قَبْلَ الصَّلاَةِ»، فَقُلْتُ لَهُ: غَيَّرْتُمْ وَاللَّهِ، فَقَالَ أَبَا سَعِيدٍ: «قَدْ ذَهَبَ مَا تَعْلَمُ»، فَقُلْتُ: مَا أَعْلَمُ وَاللَّهِ خَيْرٌ مِمَّا لاَ أَعْلَمُ، فَقَالَ: «إِنَّ النَّاسَ لَمْ يَكُونُوا يَجْلِسُونَ لَنَا بَعْدَ الصَّلاَةِ، فَجَعَلْتُهَا قَبْلَ الصَّلاَةِ»

বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০১৫

সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ হলো نصف صاع من بر (গমের অধ্য সা’) এই মাসয়ালার মাঝে শায়খ আলবানী, ইবনে তাইমিয়্যা ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গও হানাফী

সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ হলো نصف صاع من بر (গমের অধ্য সা’)
এই মাসয়ালার মাঝে শায়খ আলবানী, ইবনে তাইমিয়্যা ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গও হানাফী
❐ সাম্প্রতিক কালে আমাদের স্বল্প জ্ঞানধারী, অধিক জ্ঞানের দাবীদার, কথিত আহলে হাদীস ভাইগণ বলছেন نصف صاع (অধ্য সা’ গম) দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার বিধানের কোন দলীল নেই। আমি তাদের প্রতি খুবই আশ্চার্য হই; তারা হাদীস এর বড় বড় কিতাব পড়তে সক্ষম না হলেও তাদের শায়খ ও মহাগুরু আলবানী, ইবনে তাইমিয়্যা, ইবনুল কাইয়্যাম ইত্যাদি ব্যক্তি বর্গের কিতাবগুলোতো একটু হলেও পড়বে?
কেননা তারা যদি শায়খ আলবানীর تمام المنة في التعليق على فقه السنة এই কিতাবটি পড়তো তাহলে তারা এই ধরনের মিথ্যাচার করা থেকে রক্ষা পেতো। 

ঈদের রজনীতে ইবাদত করবেন? না কি আতশবাজি.......

ঈদের রজনীতে ইবাদত করবেন? না কি আতশবাজি.......
❐ ঈদের রজনীতে ইবাদত করার ফযিলত সম্বলিত বর্ণিত হয়েছে, বেশ কয়েকটি হাদীস। নিম্মে তাহকীকসহ উল্লেখ করা হলো--

✏ ০১. হযরত আবূ উমামা আল বাহেলী (রা.) এর হাদীস-
سنن ابن ماجه ت الأرنؤوط (2/ 658)
1782 - حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْمَرَّارُ بْنُ حَمُّويَهَ، حَدّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، حَدّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -، قَالَ:"مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلَّهِ، لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ"
হযরত আবূ উমামা (রা.) রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন। যে ব্যক্তি ঈদুল ফিত্বর এবং ঈদুল আযহার রাতে (সাওয়াবের নিয়তে, ইবাদতের উদ্দেশ্যে) জাগ্রত থাকবে, সে ব্যক্তির হৃদয় ঐ দিন মৃত্যুবরণ করবে না যেদিন অন্য হৃদয়গুলো মৃত্যুবরণ করবে। (অর্থাৎ কিয়ামতের দিবশে তার কোন ভয় থাকবে না)। ইবনে মাজা-২/৬৫৮, হাদীস-১৭৮২।

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০১৫

টাকা দ্বারা ‘‘ফিতরা’’ দেয়া হাদীস ও ইমামগণের উক্তি দ্বারা প্রমাণিত

টাকা দ্বারা ‘‘ফিতরা’’ দেয়া হাদীস ও ইমামগণের উক্তি দ্বারা প্রমাণিত
❏ মাহে রমজানে অনেক ব্যস্ততা। তাই এই বিষয়ে খুব সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ

✏ বর্তমানে আমাদের দেশে গায়রে মুকাল্লেদগণ ফাতওয়া দিয়ে বেড়াচ্ছে যে, ‘‘সহীহ বুখারীর মাঝে আছে ফিতরা দিতে হবে গম, খেজুর, কিসমিস, পনীর ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্য দিয়ে। টাকা দিয়ে আদায় করলে আদায় হবে না!!’’
তাদের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। 
❏ তাছাড়াও ইমাম বুখারী (রহ.), ইবনে আবী শায়বা (রহ.) ও বায়হাকি (রহ.) বলেন, টাকা দিয়ে ফিতরা দিলে আদায় হয়ে যাবে। নিম্মে দেখুন বিস্তারিত....

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০১৫

হাদীসে শব্দ পরিবর্তন ও নিজ থেকে সমার্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা সকলের জন্য বৈধ নয়

হাদীসে শব্দ পরিবর্তন ও নিজ থেকে সমার্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা সকলের জন্য বৈধ নয়

❖ আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) তার রচিত কিতাব ‘নুখবাতুল ফিকার’’এ বলেন-
نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر (4/ 723)
وَلَا يَجُوزُ تَعَمُّدُ تَغْيِيرِ الْمَتْنِ بِالنَّقْصِ وَالْمُرَادِفِ إِلَّا لِعَالِمٍ بِمَا يُحِيلُ الْمَعَانِي [ومن ثم] فَإِنْ خَفِيَ الْمَعْنَى احْتِيجَ إِلَى شَرْحِ الْغَرِيبِ وَبَيَانِ الْمُشْكِلِ.
অর্থ : আর ইচ্চাকৃতভাবে হাদীসের ইবারতকে অসর্ম্পূণ বা সমার্থবোধক শব্দ দিয়ে পরিবর্তন করা বৈধ নয়। একমাত্র হাদীসের অর্থ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখে, এমন আলেমের জন্য বৈধ। এধরনের পরিবর্তনের কারণে হাদীসের মাঝে দূর্লভ ও কঠিন শব্দের ব্যাখ্যার দিকে মুখাপেক্ষী হতে হয়। নুখবাতুল ফিকার-৪/৭২৩।