রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১

অগ্নি সংযোগ, বিল্ডিং ধ্বস, জাহাজ ডুবীসহ ইত্যাদি অপমৃত্যু থেকে বাচাঁর দোয়া

❏ প্রত্যেক দিন খবর দেখলেই দেখা যায়, পৃথীবির কোথাও না কোথাও অগ্নি সংযোগে মৃত্যু, বিল্ডিং ধ্বসে মৃত্যু, লঞ্চ ও জাহাজ ডুবে মৃত্যু, কুপে পড়ে মৃত্যু, বিষাক্ত প্রাণীর ছোবলে মৃত্যুসহ নানা অপমৃত্যু খবর দেখতে পাই।

❀ আমরা সকলেই উক্ত খবর পড়ে দুঃখ প্রকাশ করি ও দোয়া করি। এছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। কিন্তু আমাদের কি জানা আছে? আমাদের প্রিয় নবী (সা.) বিশুদ্ধ হাদীস এর মাধ্যমে, আমাদেরকে এই সব অপমৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া শিখিয়ে গিয়েছেন?

❖ হযরত আবূল ইয়াসার (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) এভাবে দু‘আ করতেন :-

 1552 سنن أبي داود (2/ 92)

 حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ صَيْفِيٍّ، مَوْلَى أَفْلَحَ، مَوْلَى أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي الْيَسَرِ، أَنَّ رَسُولَ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَدْمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْغَرَقِ، وَالْحَرَقِ، وَالْهَرَمِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا»ا»،

❀উচ্চারণ : ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিনাত্ তারাদ্দী ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিনাল গরাকি ওয়াল হারক্বি ওয়াল হারামি ওয়া আ‘ঊযুবিকা আন্ ইয়াতাখব্বাত্বানিশ্ শায়ত্ব-নু ‘ইন্‌দাল মাওতি ওয়া আ‘ঊযুবিকা আন্ আমূতা ফী সাবীলিকা মুদবিরান ওয়া আ‘ঊযুবিকা আন্ আমূতা লাদীগা-’’

❀ অর্থ :   হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই [আমার ওপর] কিছু ধসে পড়া হতে। আমি তোমার কাছে আরও আশ্রয় চাই উপর হতে পড়ে যাওয়া থেকে, আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবা, আগুনে পোড়া ও বার্ধক্য হতে। আরো আশ্রয় চাই তোমার কাছে মৃত্যুর সময় শয়তানের প্ররোচনায় নিমজ্জিত হওয়া থেকে। আর তোমার পথ হতে পৃষ্ঠপ্রর্দশন [জিহাদের ময়দান হতে পিছ পা] অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা হতেও আশ্রয় চাই। আরো আশ্রয় চাই দংশিত হয়ে মৃত্যুবরণ করা হতে। আবু দাউদ খন্ড-০২, পৃষ্ঠা-৯২, হাদীস নং-১৫৫২।

❀ হাদীস এর মান ও প্রমাণ সূত্র : 

০১।মুসতাদরাকে হাকেম খঃ-১/৭১৩  হাদীস নং-১৯৪৮ ইমাম হাকেম (রহ.) মৃত্যু-৪০৫হি., তার উক্ত গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন।

০২। সুনান আন-নাসায়ী খঃ-৮/২৮২ হাদীস নং-৫৫৩১, আস-সুনানুল কুবরা খঃ-৭/২৩৮ হাদীস নং-৭৯১৭, দুটি গ্রন্থ ইমাম নাসায়ী (রহ.) মৃত্যু-৩০৩হি., কর্তৃক রচিত।

০৩।  মুসনাদ আহমেদ খঃ-২৪/২৮১ হাদীস নং-১৫৫২৩ ইমাম আহমাদ ইবনে হামবল (রহ.) মৃত্যু-২৪১হি. কর্তৃক রচিত।

০৪। আল-মুযামুল কাবীর খঃ-১৯/১৭০ হাদীস নং-৩১৮, আদ-দোয়া লিত-তাবরানী পৃ.-৪০৬হাদীস নং-১৩৬৩, দুটি গ্রন্থ ইমাম তাবরানী (রহ.) মৃত্যু-৩৬০হি. কর্তৃক রচিত।

৫। আল-আহাদ ওয়াল মাসানী খঃ-০৩/৪৬০ হাদীস নং-১৯১৯, আল জিহাদ খঃ-২/৬৩৭ হাদীস নং-২৬৯  দুটি গ্রন্থ ইমাম ইবনে আবি আসেম (রহ.) মৃত্যু-২৮৭হি. কর্তৃক রচিত।

৬। সহীহ আবু দাউদ খঃ-৫/২৭৪ হাদীস নং-১৩৮৮ শায়খ আলবানী মৃত্যু-১৪২০হি. কর্তৃক রচিত গ্রন্থেও উক্ত হাদীসটি “সহীহ”(বিশুদ্ধ) বলে উল্লেখ করেছেন।

এছাড়াও হাদীস গ্রন্থের অসংখ্য কিতাবে উক্ত হাদীসটি উল্লেখ রয়েছে।

❀ হাদীসে বর্ণিত শব্দের বিশ্লেষন:

هدم : কোন স্থাপনা ধ্বসে পড়া । উক্ত হাদীসে কোন বিল্ডিং অথবা স্থাপনার নিচে পড়ে মৃত্যু থেকে আশ্রয় চাওয়াকে বুঝানো হয়েছে।

تردى : কোন উচ্চ স্থান থেকে পড়ে মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে, যেমন পাহাড় ও ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু বরণ করা অথবা কোন নিচু স্থান তথা কূপে পড়ে মৃত্যুকেও বুঝানো হয়েছে। 

غرق : পানিতে ডুবে মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে।

حرق : আগুনে পুড়ে মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে।

هرم : অধিক বার্ধক্যজনিত মৃত্যু অর্থাৎ যে বয়সে পৌছালে, বয়োবৃদ্ধ, মানসিক বিকৃতি, দুর্বলমনস্কতা ও অন্যের উপর নির্ভর হয়ে চলতে হয়, এমন মৃত্যু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। 

ان يتخبطنى الشيطان عند الموت : মৃত্যুর সময় শয়তানের প্ররোচনায় নিমজ্জিত হয়ে (বিকৃত মস্তিষ্ক ও ধর্ম পরিবর্তন করে মৃত্যু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। কেননা অপর একটি বশুদ্ধ হাদীসে এসেছে যে, “শেষ ভালো যার সব ভালো তার” অতএব, আমরা মৃত্যু মুহুর্তে শয়তানের প্ররোচনায় নিমজ্জিত না হয়ে মৃত্যু বরন করি ও জান্নাত বাসি হতে পারি তার জন্য আশ্রয় চাওয়া উচিৎ।

لديغا : বিচ্ছু অথবা সাপের মাধ্যমে দংশিত হয়ে মৃত্যু বরণ করাকে বুঝানো হয়েছে। 

***আওনুল মাবুদ খঃ-৪/২৮৭ আল্লামা আযিম আবাদী (রহ.) মৃত্যু-১৩২৯হি. কর্তৃক রচিত।

***হাশিয়াতুস সিন্দী আলা সুনানিন-নাসায়ী খঃ-৮/২৮২ ইমাম নুরুদদ্বীন আস-সিন্দী (রহ.) মৃত্যু-১৩৩৮হি. কর্তৃক রচিত।

✔ মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাহকীক (বিশ্লেষন) যেনে আমল করার তাওফীক দান করুন  (আমীন)।


✍ মুফতী সানা উল্যাহ
প্রধান মুফতী ও গবেষক
মারকাযুল ইসলাহ, বাংলাদেশ।
০৮-০৮-২০২১ ইং

বুধবার, ২৫ মে, ২০১৬

পবিত্র কোরআনের বেশ কিছু কপিতে সূরায়ে তাওবা এর শুরুতে লিখিত দোয়াটির তাহকীক...


❀ প্রশ্ন : পবিত্র কোরআনের বেশ কিছু কপিতে সূরায় “তাওবা” এর শুরুতে “ أعوذ بالله من النار، ومن شر الكفار، ومن غضب الجبار، العزة لله ولرسوله وللمؤمنين ” এই দোয়াটি পাওয়া যায়। অনেকেই উক্ত দোয়ার বিভিন্ন ফযিলত বলে থাকেন। আবার কেউ কেউ বলে থাকেন যে, সূরায়ে তাওবা এর শুরুতে বিসমিল্লাহ.. নেই, তাই উক্ত দোয়াটি পড়তে হয়।
এখন আমার জানার বিষয় হলো, কোরআন ও সুন্নাহের মাঝে এর কোন ভিত্তি রয়েছে কি?
❀ উত্তর : কোরআন ও সুন্নাহ এর মাঝে এর কোন ভিত্তি পাওয়া যায় না।

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৫

সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা সুন্নাত : বিদায় বেলা মুসাফাহা করা কি বেদআত?

সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা সুন্নাত : বিদায় বেলা মুসাফাহা করা কি বেদআত?
❏ সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা সুন্নাত, এটি আমাদের সকলেরই জানা। নিম্মে এর দলীল নিয়ে কিছু আলোচনা করা হবে। ইনশাআল্লাহ
কিন্তু অনেক ভাইকে বলতে শুনা যায় যে, বিদায় বেলা মুসাফাহা করা বেদআত। আসলে এর বাস্তবতা কতটুকু....

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৫

ইমাম আবূ হানিফা (রহ.) কে বেদআতী আক্ষাকারীর শেষ অবস্থা ও লা-মাযহাবী বন্ধুদের কিছু ব্যবস্থা

ইমাম আবূ হানিফা (রহ.) কে বেদআতী আক্ষাকারীর শেষ অবস্থা ও লা-মাযহাবীদের কিছু ব্যবস্থা

❏ তারিখে বাগদাদে নিম্ম সনদসহ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.) এর একটি ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে-
 تاريخ بغداد ت بشار (15/ 463)
أَخْبَرَنِي أَبُو بشر الوكيل، وأبو الفتح الضبي، قالا: حَدَّثَنَا عُمَر بن أَحْمَد الواعظ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَد بن مُحَمَّد بن عصمة الخراساني، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَد بن بسطام، قَالَ: حَدَّثَنَا الفضل بن عبد الجبار، قال: سمعت أبا عثمان حمدون بن أبي الطوسي، يقول: سمعت عبد الله بن المبارك، يقول: قدمت الشام على الأوزاعي فرأيته ببيروت، فقال لي: يا خراساني، من هذا المبتدع الذي خرج بالكوفة، يكنى: أبا حنيفة، فرجعت إلى بيتي فأقبلت على كتب أبي حنيفة، فأخرجت منها مسائل من جياد المسائل، وبقيت في ذلك ثلاثة أيام، فجئت يوم الثالث، وهو مؤذن مسجدهم وإمامهم، والكتاب في يدي، فقال لي: أي  شيء هذا الكتاب؟ فناولته، فنظر في مسألة منها وقعت عليها، قال: النعمان بن ثابت، فما زال قائما بعد ما أذن حتى قرأ صدرا من الكتاب، ثم وضع الكتاب في كمه، ثم أقام وصلى، ثم أخرج الكتاب حتى أتى عليها، فقال لي: يا خراساني، من النعمان بن ثابت هذا؟ قلت: شيخ لقيته بالعراق، فقال: هذا نبيل من المشايخ، اذهب فاستكثر منه، قلت: هذا أَبُو حنيفة الذي نهيت عنه.

বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৫

লা-মাযহাবী, না কি পাগল!!!

                                                                      লা-মাযহাবী, না কি পাগল!!!
❏ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে, প্রায় সময় মুখামুখি হতে হয় লা-মাযহাবী বন্ধুদের। কিন্তু তাদের সাথে আলোচনার মাঝে একটা বিষয়ে ফুটে উঠে, আর তা হলো, তারা নিজেদেরকে মুজতাহিদ ভেবে, এমন অনেক কথা বলে, যা কোন ফকীহ বা মুহাদ্দীস বলেন নি! আমি সংক্ষেপে তাদের পাগল বলে সম্বোধন করি।

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৫

বিবাহ সংত্রুান্ত হাদীসে একটি ভুল সংশোধনের জন্য, ৮০হাজার দেরহাম পুরুস্কার!!!

বিবাহ সংত্রুান্ত হাদীসে একটি ভুল সংশোধনের জন্য, ৮০হাজার দেরহাম পুরুস্কার!!!
❏ আল্লামা ইবনে খাল্লেকান তার রচিত কিতাব ‘‘ওফায়াতুল আ’য়ান’’ এর ৫/৩৯৭ নং পৃষ্ঠায় ৭৬৪নং জীবনী دار صادر - بيروت থেকে প্রকাশিত ‘‘নযর বিন শুমাইলের’’ জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে খুব সুন্দর একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
❖  যার সারসংক্ষেপ হলো এই যে, একদা নযর বিন শুমাইল, মামুনুর রশিদের দরবারে আগমন করেন। তারা উভয়েই হাদীস এর ব্যাপারে আলোচনা করতে থাকেন।
❀ মামুনুর রশিদ হুসাইমের সূত্রে একটি হাদীস আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করে বলেন-
الفتح الكبير في ضم الزيادة إلى الجامع الصغير (1/ 88)
(852) ((إِذا تَزَوَّج الرَّجُلُ المَرْأةَ لِدينِها وَجَمالِها كانَ فِيهَا سَدَادٌ مِنْ عَوَزٍ)) (الشِّيرَازِيّ فِي الألقاب) عَن ابْن عَبَّاس وَعَن عَليّ.
ضعيف
رواه الديلمي (1/1/156) من طريق الطبراني عن النضر بن شميل: حدثنا الأموي: حدثنا هشيم عن مجالد عن الشعبي عن ابن عباس مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ضعيف. مجالد - وهو ابن سعيد - ليس بالقوي. والأموي، لم أعرفه، وهم جماعة ينسبون هذه النسبة فمن هو منهم؟ والحديث عزاه السيوطي للشيرازي في " الألقاب " عن ابن عباس وعلي، وقال المناوي: " وفيه هشيم بن بشير؛ أورده الذهبي في " الضعفاء "، وقال: حجة حافظ يدلس، وهو في الزهري لين، وحكم ابن الجوزي بوضعه ".

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫

দেখুন! রাসূলের অভিশাপের বাস্তবতা..

দেখুন! রাসূলের অভিশাপের বাস্তবতা..
❏ কোরআন ও হাদীসের অসংখ্য স্থানে আল্লাহ ও রাসূল (সা.) বিভিন্ন বিষয়ে অভিশাপ দিয়েছেন। যেমন :- মদ খাওয়া, জুয়া খেলা, সুদী লেনদেন ইত্যাদি।
কিন্তু আমরা এগুলোকে কোন গুরুত্ব দিতে অভ্যস্থ নই, অথচ কাফেররাও রাসূল (সা.) এর অভিশাপকে গুরুত্ব দিতো ও ভয় পেতো।

✏ তার একটি জ্বলন্ত প্রমাণ-
دلائل النبوة لأبي نعيم الأصبهاني (ص: 454)
380 - حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ مَنْصُورُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْأَصْبَهَانِيُّ ثنا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْفَارِسِيُّ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ ثنا سَلَمَةُ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ هَبَّارِ بْنِ الْأَسْوَدِ قَالَ : كَانَ أَبُو لَهَبٍ وَابْنُهُ عُتَيْبَةُ قَدْ تَجَهَّزَا إِلَى الشَّامِ وَتَجَهَّزْتُ مَعَهُمَا، فَقَالَ ابْنُهُ عُتَيْبَةُ: وَاللَّهِ لَأَنْطَلِقَنَّ إِلَيْهِ فَلَأُوذِيَنَّهُ فِي رَبِّهِ , فَانْطَلَقَ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ , هُوَ يَكْفُرُ بِالَّذِي دَنَا فَتَدَلَّى فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " اللَّهُمَّ ابْعَثْ عَلَيْهِ كَلْبًا مِنْ كِلَابِكَ ثُمَّ انْصَرَفَ عَنْهُ فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: أَيْ بُنَيَّ , مَا قُلْتَ لَهُ؟ قَالَ: كَفَرْتُ بإِلَهِهِ الَّذِي يَعْبُدُ قَالَ: فَمَاذَا قَالَ لَكَ؟ قَالَ: قَالَ اللَّهُمَّ ابْعَثْ عَلَيْهِ كَلْبًا مِنْ كِلَابِكَ فَقَالَ: أَيْ بُنَيَّ , وَاللَّهِ مَا آمَنُ عَلَيْكَ دَعْوَةَ مُحَمَّدٍ قَالَ: فَسِرْنَا حَتَّى نَزَلْنَا الشَّرَاةَ وَهِيَ مَأْسَدَةٌ فَنَزَلْنَا إِلَى صَوْمَعَةِ رَاهِبٍ فَقَالَ: يَا مَعْشَرَ الْعَرَبِ مَا أَنْزَلَكُمْ هَذِهِ الْبِلَادَ وَإِنَّهَا مَسْرَحُ الضَّيْغَمِ؟ فَقَالَ لنا أَبُو لَهَبٍ: إِنَّكُمْ قَدْ عَرَفْتُمْ حَقِّي؟ قُلْنَا: أَجَلْ يَا أَبَا لَهَبٍ فَقَالَ: إِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ دَعَا عَلَى ابْنِي دَعْوَةً وَاللَّهِ مَا آمَنُهَا عَلَيْهِ , فَاجْمَعُوا مَتَاعَكُمْ إِلَى هَذِهِ الصَّوْمَعَةِ , ثُمَّ افْرِشُوا لِابْنِي عُتَيْبَةَ ثُمَّ افْرِشُوا حَوْلَهُ قَالَ: فَفَعَلْنَا جَمَعْنَا الْمَتَاعَ حَتَّى ارْتَفَعَ ثُمَّ فَرَشْنا لَهُ عَلَيْهِ , وَفَرَشْنَا حَوْلَهُ فَبَيْنَا نَحْنُ حَوْلَهُ وَأَبُو لَهَبٍ مَعَنَا أَسْفَلَ وَبَاتَ هُوَ فَوْقَ الْمَتَاعِ , فَجَاءَ الْأَسَدُ فَشَمَّ وُجُوهَنَا، فَلَمَّا لَمْ يَجِدْ مَا يُرِيدُ تَقَبَّضَ ثُمَّ وَثَبَ فَإِذَا هُوَ فَوْقَ الْمَتَاعِ فَجَاءَ الْأَسَدُ فَشَمَّ وَجْهَهُ ثُمَّ هَزَمَهُ هَزْمَةً فَفَضَخَ رَأْسَهُ فَقَالَ: سَيْفِي يَا كَلْبُ لَمْ يَقْدِرْ عَلَيَّ غَيْرُ ذَلِكَ وَوَثَبْنَا فَانْطَلَقَ الْأَسَدُ وَقَدْ فَضْخَ رَأْسَهُ فَقَالَ لَهُ أَبُو لَهَبٍ: قَدْ عَرَفْتُ وَاللَّهِ مَا كَانَ لِيَنْقَلِبَ مِنْ دَعْوَةِ مُحَمَّدٍ

রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

হারানো বস্তু/ব্যক্তির চেয়ে উত্তমটি পেতে নিম্ম দোয়া পড়ুন

হারানো বস্তু/ব্যক্তির চেয়ে উত্তমটি পেতে নিম্ম দোয়া পড়ুন
❏ জীবনে চলার পথে অনেক সময় হারাতে হয় অনেক কিছু যেমন নিজ প্রিয় বস্তু বা ব্যক্তি। আর তাতে সকলকেই মর্মাহত হতে হয়। কিন্তু এমন একটি ব্যবস্থাওতো জেনে রাখা প্রয়োজন, যাতে করে আপনি উক্ত বস্তুর চেয়ে উত্তম কিছু পেয়ে যান। আর সেই ব্যবস্থাই আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, আমাদের প্রিয় নবী রাসূল (সা.)। নিম্মে দোয়াটি পেশ করা হলো-
صحيح مسلم (2/ 631)
3 - (918) حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ حُجْرٍ، جَمِيعًا عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، أَخْبَرَنِي سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ، عَنْ ابْنَ سَفِينَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: " مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُصِيبُهُ مُصِيبَةٌ، فَيَقُولُ مَا أَمَرَهُ اللهُ: {إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ}، اللهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي، وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا، إِلَّا أَخْلَفَ اللهُ لَهُ خَيْرًا مِنْهَا "، قَالَتْ: فَلَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ، قُلْتُ: أَيُّ الْمُسْلِمِينَ خَيْرٌ مِنْ أَبِي سَلَمَةَ؟ أَوَّلُ بَيْتٍ هَاجَرَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ إِنِّي قُلْتُهَا، فَأَخْلَفَ اللهُ لِي رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: أَرْسَلَ إِلَيَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَاطِبَ بْنَ أَبِي بَلْتَعَةَ يَخْطُبُنِي لَهُ، فَقُلْتُ: إِنَّ لِي بِنْتًا وَأَنَا غَيُورٌ، فَقَالَ: «أَمَّا ابْنَتُهَا فَنَدْعُو اللهَ أَنْ يُغْنِيَهَا عَنْهَا، وَأَدْعُو اللهَ أَنْ يَذْهَبَ بِالْغَيْرَةِ»

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

আল্লাহর ঘর মসজিদ নিয়েও এখন জাল হাদীস এর আসর!

আল্লাহর ঘর মসজিদ নিয়েও এখন জাল হাদীস এর আসর!
❏ প্রশ্ন : আমাদের সমাজে দেখা যায়, হাদীস বলে নিম্ম কথাটি বলা হয়-
‘‘মসজিদে কেউ প্রথমবার দুনিয়াবী কথা বললে ফিরিশতারা বলেন, হে আল্লাহর বন্ধু ‘আপনি’ চুপ করুন। আবার দুনিয়াবী কথা বললে ফিরিশতারা বলেন, হে আল্লাহর বান্দা ‘তুমি’ চুপ কর। তৃতীয়বার কথা বললে ফিরিশতারা বলেন, হে আল্লাহর দুশমন ‘তুই’ চুপ কর।’’
আমার জানার বিষয় হলো, এটি হাদীস কি না?
❏ উত্তর : এটি হাদীস নয়; হাদীসের কিতাবসমূহে এটি পাওয়া যায় না। মাসিক আল কাউসার, মার্চ-২০১৪ পৃ.-৩০।
❖ এ বিষয়ক আরো দুটি ভিত্তিহীন বর্ণনা উল্লেখযোগ্য-
✏ المصنوع في معرفة الحديث الموضوع (ص: 92)
109 - حَدِيثُ الْحَدِيثُ فِي الْمَسْجِدِ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ الْبَهِيمَةُ الْحَشِيشَ لَمْ يُوجَدْ كَذَا فِي الْمُخْتَصَرِ
✏ ০১. মসজিদে (দুনিয়াবী) কথাবার্তা নেকিকে এমনভাবে খতম করে, যেমন চুতষ্পদ প্রাণী তৃণলতাকে শেষ করে দেয়। আল মাসনূ-৯২, হাদীস-১০৯।

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

আম্মাজান আয়েশা (রা.) রাগ করলে, রাসূল (সা.) যেভাবে বুঝতেন...

আম্মাজান আয়েশা (রা.) রাগ করলে, রাসূল (সা.) যেভাবে বুঝতেন...
❖ কিছু দিন পূর্বে এক জায়গায় যাচ্ছিলাম, পথের মাঝেই শুরু হয়ে গেলে রাগ বশতঃ স্বামী স্ত্রীর মারামারি, আমি দেখে অবাক হলাম! আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম যে, প্রকৃত ইসলামের বিধান জানা থাকলে আজ এমন হতো না। আর এধরনের রাগের কারণেই অনেক সময় ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় । তাই এ বিষয়ে কিছু কথা...
❀ মানুষ রাগ হওয়াটাই স্বাভাবিক, তাই বলে কি এমন অস্বাভাবিক আচরণ! দেখুন আম্মাজান আয়েশা (রা.)ও রাগ করতো, কিন্তু রাসূল (সা.) কী বলতেন-
صحيح مسلم (4/ 1890)
80 - (2439) حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ وَجَدْتُ فِي كِتَابِي عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأَعْلَمُ إِذَا كُنْتِ عَنِّي رَاضِيَةً، وَإِذَا كُنْتِ عَلَيَّ غَضْبَى» قَالَتْ فَقُلْتُ: وَمِنْ أَيْنَ تَعْرِفُ ذَلِكَ؟ قَالَ: " أَمَّا إِذَا كُنْتِ عَنِّي رَاضِيَةً، فَإِنَّكِ تَقُولِينَ: لَا وَرَبِّ مُحَمَّدٍ وَإِذَا كُنْتِ غَضْبَى، قُلْتِ: لَا، وَرَبِّ إِبْرَاهِيمَ " قَالَتْ قُلْتُ: أَجَلْ، وَاللهِ يَا رَسُولَ اللهِ مَا أَهْجُرُ إِلَّا اسْمَكَ.
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, হে আয়েশা! আমি অবশ্যই জানি কখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক আর কখন নারাজ (রাগ) হও। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তা আপনি কিভাবে জানেন? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক, তখন তুমি এরূপ বল, ‘মুহাম্মাদের প্রভুর কসম, আর যখন তুমি অসন্তুষ্ট হও তখন বল, ‘ইবরাহীমের প্রভুর কসম’! আমি বললাম, জী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। খোদার শপথ! (রাগের সময়) আমি কেবল আপনার নামটাই বাদ দেই। সহীহ মুসলিম-৪/১৮৯০, হাদীস-২৪৩৯।

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫

কেমন চরিত্র ছিল আম্মাজান আয়েশা (রা.) এর! আর কি বলছে কথিত আহলে হাদীস..!

কেমন চরিত্র ছিল আম্মাজান আয়েশা (রা.) এর! আর কী বলছে কথিত ‘‘আহলে হাদীস’’..!
❑ কিছু দিন পূর্বে এক কথিত ‘‘আহলে হাদীস’’ একটি আলোচনার প্রেক্ষিতে আম্মাজান আয়েশা (রা.) কে গালিগালাজ করছিলো। সাথে সাথে আরো বললো, সাহাবীদের কথা প্রমাণযোগ্য নয়!!
আমি তার কথা শুনে খুবই মর্মাহত হলাম। তার প্রতি খুবই আফসোস হল। সে যদি আম্মাজান আয়েশা (রা.) এর পরিচয় জানত, তাহলে মনে হয় এমন কথা বলা আদৌ সম্ভব হতো না। কথিত ‘‘আহলে হাদীসদেরকে’’ এই সব বুলি, তাদের গুরুজনরাই শিক্ষা দিয়েছে। দেখুন তার কিছু দৃষ্টান্ত-
❑ ভারতবর্ষে লা-মাযহাবীদের প্রধান মুখপাত্র নবাব ছিদ্দিক্ব হাসান খানের নিজ গ্রন্থ থেকে কয়েকটি উক্তি নিন্মে প্রদত্ত হল-
قول الصحابى لاتقوم به حجة وفهم الصحابى ليس بحجة ـ
‘‘সাহাবাগণের (রা.) কথা দলীল স্বরূপ পেশ করা যাবে না এবং তাদের বুঝ নির্ভরযোগ্য নয়।’’ আর রওজাতুন নাদীয়াহ-১/১৪১, ১/১৫৪।

রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৫

الجنَّةُ تحتَ أقدامِ الأمَّهاتِ ‘‘মায়ের পায়ের নিচে (সন্তানের) বেহেশত’’ উক্ত বাক্যে হাদীসটি কি সহীহ?

الجنَّةُ تحتَ أقدامِ الأمَّهاتِ
‘‘মায়ের পায়ের নিচে (সন্তানের) বেহেশত’’ উক্ত বাক্যে হাদীসটি কি সহীহ?
❏ বেশ কিছু ভাই প্রশ্ন করেছেন, উক্ত শব্দে হাদীসটি সহীহ কি না? এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে। যদি উক্ত হাদীস সহীহ না হয়, তাহলে উক্ত মর্মে অন্য কোন হাদীস রয়েছে কি? নিম্মে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো....

❖ উক্ত শব্দে হাদীসটি সহীহ না বরং এটি যয়ীফ ও মুনকার। নিম্মে হাদীসটি সনদসহ দেখুন-
الكامل في ضعفاء الرجال (8/ 64)
قَالَ الشَّيْخُ: وَهَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ بِهَذَا الإِسْنَادِ يرويه، عَن أَبِي المليح مُوسَى بْن مُحَمد، وأَبُو المليح لا بأس به.
حَدَّثَنَا عُمَر بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنا عباس بن الوليد الخلال، حَدَّثَنا مُوسَى بْنُ مُحَمد بْنِ عطاء، حَدَّثَنا أَبُو الْمُلَيْحِ عَنْ مَيْمُونَ بْنِ مَهْرَانَ، عنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَال: قَال رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجَنَّةُ تَحْتَ أَقْدَامِ الأمهات من شئن أدخلن، ومَنْ شئن أخرجن
অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, মায়ের পায়ের নিচে (সন্তানের) বেহেস্ত। যে চায়, সে যেন তাতে প্রবেশ করে আর না চাইলে যেন বের হয়ে যায়। আল কামেল লি ইবনে আদী-৮/৬৪।

শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৫

মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিলে কি কোন ফযীলত পাওয়া যায়?

মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিলে কি কোন ফযীলত পাওয়া যায়?
গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে চান! জান্নাতে রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে চান! আরো কত নেয়ামত....
❏ গত বৃহস্পতিবার আমার বড় চাচি ইন্তেকাল করেন । তাই হঠাৎ করে আমার শ্রদ্ধেয় পিতা জানতে চাইলেন যে, ‘‘মৃত ব্যক্তিকে গোসল করালে কি কোন ফযীলত পাওয়া যায়?’’ তখন আমি একটি মহলে বসা ছিলাম। এই প্রশ্ন ঐ মহলে উঠালে অনেকেই এই ফাযায়েল সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে ব্যক্ত করলেন। তাই আজ ইচ্ছে হলো, এই বিষয়টি সকলকে জানিয়ে দেয়া। যাতে করে আমরাও মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিয়ে সাওয়াবের অধিকারী হতে পারি।


❖ ০১. হযরত আবূ রাফে’ (রা.) এর হাদীস-
المعجم الكبير للطبراني (1/ 315)
929 - حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَلُولٍ الْبَصْرِيُّ، ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ شَرِيكٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا رَافِعٍ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ غَسَّلَ مَيِّتًا فَكَتَمَ عَلَيْهِ غُفِرَ لَهُ أَرْبَعِينَ كَبِيرَةً،.......»
হযরত আবূ রাফে (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কোন মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিলো, আর তার দোষ ক্রটিগুলো ঢেকে রাখলো, আল্লাহ তায়ালা তার চল্লিশটি কবীরা গুনাহ মাফ করে দিবেন। আল মুজামুল কাবীর-১/৩১৫, হাদীস-৯২৯, মুসতাদরাকে হাকেম-১/৫০৫, হাদীস-১৩০৭, আস সুনানুল কুবরা-৩/৫৫৪, হাদীস-৬৬৫৫ ইত্যাদি

শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৫

জাল হাদীসের কবলে কেন বন্দি আজ নারী সমাজ? ‘‘স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রির বেহেস্ত’’ এটি কি কোন হাদীস?

জাল হাদীসের কবলে কেন বন্দি আজ নারী সমাজ?
‘‘স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রির বেহেস্ত’’ এটি কি কোন হাদীস?
❖ সাম্প্রতিক কালে যে কোন বিষয়ে নারী সমাজের মুখ বন্ধ করার জন্য একটি সুন্দর বুলি তৈরী করা হয়েছে। আর তা হলো, কোন নারী স্বামীর বৈধ ও অবৈধ যে কোন ধরনের হুকুম অমান্য করতে দেখা গেলেই বলা হয়, তুমি কি জানো না? হাদীসে আছে "الجنة تحت أقدام الزوج" ‘‘স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রি বেহেস্ত’’ তুমি তো বেহেস্ত পাবে না। 
তখন বাধ্য হয়ে নারীগণ চুপ মেরে যায়। প্রকৃত পক্ষে কোরআন ও সুন্নাহের কোথাও "الجنة تحت أقدام الزوج" তথা (‘‘স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রির বেহেস্ত’’) এমন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাই এধরনের ভিত্তিহীন বর্ণনা আমদের পরিহার করা উচিৎ।

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৫

জাল হাদীসের কবলে কেন দেশ প্রেম?

জাল হাদীসের কবলে কেন দেশ প্রেম?
 ❁   বর্তমানে দেশের ভালোবাসা নিয়ে কোন কথা বললেই সকলের দৃষ্টি চলে যায় حب الوطن من الايمان তথা ‘‘স্বদেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ’’ নামক জাল হাদীসটির প্রতি। (যাকে হাফেযে হাদীস, মুহাদ্দেসগণ ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছেন। যেমন আল্লামা সাগানী (রহ.), মোল্লা আলী কারী (রহ.), আল্লামা সাখাবী (রহ.) প্রমুখগণ। রিসালাতুল মাওযুআত-৭, আল মাসনু-৯১, আল মাকাসিদুল হাসানা-২১৮, তাযকিরাতুল মাওযূআত-১১, আদ্দুরারুল মুনতাসিরা-১১০, মিরকাতুল মাফাতীহ-৪/৫, আল মাওযূআতুল কুবরা-৬১, আল লুউলুউল মারসূ-৩৩ ইত্যাদি।)

❏ তাই অনেকেই দেখা যায় এ বিষয়ে ঢালাওভাবে ফাতওয়া দিয়ে দেয় যে, ‘‘স্বদেশ প্রেম’’ এর বিষয়ে কোন  হাদীস নেই। আসলে এটি সম্পূর্ণ ভূল ধারণা। তাই আজকে এ বিষয়ে কিছু লিখার ইচ্ছা করলাম...

✔ এটা অবধারিত সত্য যে, একজন মানুষ যখন পৃথিবীর বিশাল ভূখন্ডের কোনো এক অংশে জন্মলাভ করে, সেখানকার আলো-বাতাস গ্রহণ করে, সেখানে বেড়ে ওঠে। তখন স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার মাটি-মানুষের প্রতি অন্যরকম হৃদ্যতা ও আপনত্ব অনুভব করে। জন্মভূমির প্রতি মানুষের এই স্বভাবজাত আকর্ষণকে ইসলাম মূল্যায়ন করেছে।

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০১৫

‘‘ইয়ামানকে’’ আমি যে কারণে ভালোবাসি, কিন্তু আপনি কেন বঞ্চিত হবেন?

‘‘ইয়ামানকে’’ আমি যে কারণে ভালোবাসি, কিন্তু আপনি কেন বঞ্চিত হবেন?
❀ আমাদের অনেকেই আজ আমেরিকা, রাশিয়া, চীন ও ভারত ইত্যাদি রাষ্টের ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে আছে। অথচ রাসূল (সা.) এর হাদীস দ্বারা যেই সব রাষ্টের ভালোবাসার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, তার থেকে আমরা বে-খবর। তাই আজ এমন একটি রাষ্ট তথা ইয়ামানকে নিয়ে আলোচনা করা হবে....
 
 ✔রাসূল (সা.) যেই হাদীস দ্বারা ইয়ামানকে ভালোবাসার প্রতি ইংঙ্গিত দিয়েছেন....✔
 ❖ ০১ নং হাদীস-
صحيح البخاري (5/ 173)
4388 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَاكُمْ أَهْلُ اليَمَنِ، هُمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً وَأَلْيَنُ قُلُوبًا، الإِيمَانُ يَمَانٍ وَالحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ، وَالفَخْرُ وَالخُيَلاَءُ فِي أَصْحَابِ الإِبِلِ، وَالسَّكِينَةُ وَالوَقَارُ فِي أَهْلِ الغَنَمِ»

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০১৫

শ্রদ্ধা, ভক্তি, প্রশংসা, সম্মান ও ভালোবাসার মাঝেও অতিরঞ্জন নিষেধ

শ্রদ্ধা, ভক্তি, প্রশংসা, সম্মান ও  ভালোবাসার মাঝেও অতিরঞ্জন নিষেধ
❖ বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, শ্রদ্ধা, ভক্তি, প্রশংসা, সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করতে গিয়ে, অনেকেই ইসলামের সীমারেখা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। আসলে প্রকৃত পক্ষে ইসলাম এগুলো সমর্থন করে না। তাই আজকে এই বিষয়ে কিছু আলোচনা নিম্মে উল্লেখ করা হলো-


❀ ০১. একদা সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ভাবলেন আমরাতো দুনিয়াতে সমস্ত মুসলিমকেই সালাম করে থাকি, তাহলে আমরা আল্লাহকে সালাম করবো না কেন?
অতপর শুরু হলো মহান আল্লাহকেও সালাম করা। যার আলোচনা নিম্ম হাদীসে এসেছে-
صحيح البخاري (9/ 116)
7381 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ، حَدَّثَنَا شَقِيقُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: كُنَّا نُصَلِّي خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَقُولُ: السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلاَمُ، وَلَكِنْ قُولُوا: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ "

মেসওয়াক করে নামায পড়লে কি সত্তুর গুণ বেশী সাওয়াব পাওয়া যায়?

মেসওয়াক করে নামায পড়লে কি সত্তুর গুণ বেশী সাওয়াব পাওয়া যায়?
السؤال:سائل يسأل عن حديث: "صلاة بسواك أفضل من سبعين صلاة بغير سواك"، من رواه، وهل هو صحيح الإسناد؟ وعن كلام العلماء على توجيه تضعيف الصلاة إلى هذا العدد. نرجوكم إيضاح الجواب، وفقكم الله للصواب.

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

কথিত আহলে হাদীসদের মহামান্য ‘‘ইবনু কাইয়্যাম আল জাওযীইয়া (রহ.)’’ সহীহ মুসলিমের মাঝেও জাল হাদীসের দাবী করেছেন!! এ বিষয়ে বর্তমান কথিত আহলে হাদীসদের মতামত জানতে চাই

কথিত আহলে হাদীসদের মহামান্য ‘‘ইবনু কাইয়্যাম আল জাওযীইয়া (রহ.)’’ সহীহ মুসলিমের মাঝেও জাল হাদীসের দাবী করেছেন!! এ বিষয়ে বর্তমান কথিত আহলে হাদীসদের মতামত জানতে চাই
❖বর্তমানে কথিত আহলে হাদীস ভাইদেরকে দেখা যাচ্ছে, ‘‘আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.)’’ ও তার বিখ্যাত ছাত্র ‘‘ইবনু কাইয়্যাম আল জাওযীইয়া (রহ.) কে নিয়ে অসংখ্য জায়গায় বাড়াবাড়ি করতে ও তাদের মতামত গ্রহণ করতে। তাই আজ আমি নিম্মে এমন একটি হাদীস উল্লেখ করবো যাকে ‘‘ইবনু কাইয়্যাম আল জাওযীইয়া (রহ.) ‘’ ভুল বলেছেন। অথচ সেটি হলো সহীহ মুসলিম এর বর্ণনা (যেই কিতাবের সমস্ত হাদীস সহীহ বলে উম্মতের বিখ্যাত মুহাদ্দীসগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন)। তাই আমার জানার বিষয় হলো উক্ত হাদীস সম্পর্কে আপনাদের মতামত কি? দেখুন নিম্মে....
✏ সহীহ মুসলিমের বর্ণনা-
صحيح مسلم (4/ 1945)
168 - (2501) حَدَّثَنِي عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَعْقِرِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا النَّضْرُ وَهُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو زُمَيْلٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ: كَانَ الْمُسْلِمُونَ لَا يَنْظُرُونَ إِلَى أَبِي سُفْيَانَ وَلَا يُقَاعِدُونَهُ، فَقَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا نَبِيَّ اللهِ ثَلَاثٌ أَعْطِنِيهِنَّ، قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: عِنْدِي أَحْسَنُ الْعَرَبِ وَأَجْمَلُهُ، أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ أَبِي سُفْيَانَ، أُزَوِّجُكَهَا، قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: وَمُعَاوِيَةُ، تَجْعَلُهُ كَاتِبًا بَيْنَ يَدَيْكَ، قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: وَتُؤَمِّرُنِي حَتَّى أُقَاتِلَ الْكُفَّارَ، كَمَا كُنْتُ أُقَاتِلُ الْمُسْلِمِينَ، قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ أَبُو زُمَيْلٍ: وَلَوْلَا أَنَّهُ طَلَبَ ذَلِكَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَعْطَاهُ ذَلِكَ، لِأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُسْأَلُ شَيْئًا إِلَّا قَالَ: «نَعَمْ»
অর্থ : ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মুসলমানরা আবু সুফিয়ানের প্রতি ভ্রুক্ষেপও করতো না এবং তার কাছে বসতোও না। একবার সে নবী (সা.) কে বললো, হে আল্লাহর নবী! তিনটি জিনিস আমাকে দিন। তিনি বললেন : আচ্ছা! সে বলল, আমার কাছে আরবদের সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বাধিক সুন্দরী মহিলা রয়েছে ‘‘উম্মু হাবীবা বিনতে আবু সুফিয়ান (রা.)।’’ তাকে আপনার সাথে বিবাহ দিব। তিনি বললেন : আচ্ছা! সে বলল, মু‘আবিয়াকে আপনার সেক্রেটারী নিযুক্ত করুন। তিন বললেন : আচ্ছা! সে বলল, আমাকে নির্দেশ দিন আমি কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যেভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম। তিনি বললেন : আচ্ছা! আবূ যুমাইল বলেন, আবূ সুফিয়ান (রা.) যদি নবী (সা.) এর নিকট এগুলো না চাইতেন তাহলে তিনি তাকে এগুলো দিতেন না। কেননা তিনি তার কাছে যা চাইতেন তিনি শুধু হ্যাঁ বলতেন। সহীহ মুসলিম-৪/১৯৪৫, হাদীস-২৫০১।

❀ এখন দেখুন ‘‘ইবনু কাইয়্যাম আল জাওযীইয়া (রহ. ‘’ এর কিতাব থেকে উক্ত হাদীস সম্পর্কে মন্তব্য-
جلاء الأفهام في فضل الصلاة على محمد خير الأنام (ص: 252)
فَالصَّوَاب أَن الحَدِيث غير مَحْفُوظ بل وَقع فِيهِ تَخْلِيط وَالله أعلم
অর্থ : সঠিক কথা হলো উক্ত হাদীসটি সংরক্ষিত নয়! বরং তার মাঝে অনেক গোলমাল হয়েছে..। জালাউল আফহাম-২৫২।
❐ উল্লেখ্য যে ইবনু হাযম (রহ.) উক্ত হাদীসটির সূত্রে বর্ণনাকারী ‘‘ইকরামা ইবনে আম্মার’’ এর কারণে হাদীসটিকে সরাসরী জাল তথা মাওজু বলেছেন। দেখুন আরো বিস্তারিত আল হাদীসুস যয়ীফ হুকমুহু ওয়া ফাওয়ায়েদুহু লি মুহাম্মাদ উবায়দুল্লাহ আল আসয়াদী-৩১-৩২।

✔ অতএব উক্ত বিষয়ে আহলে হাদীস ভাইগণ নিজেদের মন্তব্য জানিয়ে বাধিত করবেন।

✍ ইতি মুফতী মো. ছানা উল্লাহ

মানুষের সম্মান নিয়ে ইসলামের নিরব ভূমিকা আপনি কি অন্যের বায়ূ নির্গত হওয়াতে হাঁসছেন?

মানুষের সম্মান নিয়ে ইসলামের নিরব ভূমিকা,
আপনি কি অন্যের বায়ূ নির্গত হওয়াতে হাঁসছেন?
❀ মন চাইলো আজ এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে, যা আমাদের সমাজে অনেকেরই অজানা। কেননা বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় অনেক মুরুব্বী মানুষ অধিক বয়সের কারণে নিজকে কন্ট্রোল রাখতে না পেরে, বায়ূ ছেড়ে বসে। আর আমরা যারা আশপাশে আছি তারা হাঁসাহাঁসি শুরু করে দেই। শুধু মুরুব্বী মানুষ নয় বরং অনেক সময় যুবক-যুবতী ও শিশুদেরকেও এই কাজে ভূমিকা রাখতে দেখা যায়।

✿ এখন আলোচনার বিষয় হলো ‘‘অন্যের বায়ূ নির্গত হওয়াতে আপনার জন্য হাঁসাহাঁসি করা ইসলামে বৈধ কি?’’ অনেকেই বলবেন আরে! ইসলাম বুঝি এ বিষয় নিয়েও কোন বিধান রেখেছে? আমি বলবো হ্যাঁ। ইসলাম এ বিষয়েও বিধান রেখেছে। নিন্মে তা বিস্তারিত দেখুন, আর নিজেকে গড়ে তুলুন একজন কোরআন ও সুন্নাহ প্রতি সহীহ আমলকারী।