রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

সত্তর হাজার বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়লে......

সত্তর হাজার বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়লে কি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়??

**সালাফীদরে বিভ্রান্তির কবলে ইসলাম-
ফাযায়েলে আমল ও আল্লামা যাকারীয়া সাহেব (রহ.) কে  ফাঁসাতে গিয়ে সালাফীগণ নিজেরাই ফেঁসে গেলেন।
 

প্রথমে  সালাফী ভাইদের আপত্তিগুলো নিন্মে দেয়া হলো-

ইলিয়াসি তাবলিগের পোষ্টমর্টাম। (পর্ব ১)
জনৈক যুবকের কাশফের বয়ান ও সত্তর হাজার বার কালেমা পড়ার ফযিলত।
 
শায়েখ আবু কুররতবী (রা:) বলেন, আমি শুনিয়াছি যে ব্যাক্তি সত্তর হাজার বার কালেমা পড়িবে সে দোযখ হইতে নাজাত পাইবে। ইহা শুনিয়া আমি নিজের জন্য সত্তর হাজার বার ও আমার স্ত্রীর জন্য সত্তর হাজার বার এবং এই রুপে এই কালেমা কয়েক নেছাব আদায় করিয়া পরকালের ধন সংগ্রহ করি।
আমাদের নিকটেই একজন যুবক কাশফওয়ালা বলিয়া খ্যাত লাভ করিয়াছে। সে নাকি বেহেস্ত দোযখ দেখিতে পাইতো আমি ওহাকে সন্দেহ করিলাম।এক সময় ঐ যুবক আমার সহিত আহার করিতে বসিয়া হঠাৎ চিৎকার মারিয়া উঠিল ও বলিল আমার মা দোযখে জ্বলিতেছে। তাহার অবস্থা আমি দেখিতে পাইতেছি। যুবকের অস্থিরতা দেখিয়া কুরতবী (রা:) বলেন আমি মনে মনে সত্তর হাজার বার পড়ার একটি নেসাব ঐ যুবকের মায়ের নামে। বখশিশ করিয়া দিলাম। কিন্তু এক আল্লাহ ব্যাতিত আমার আমলের কথা আর কাহারো জানা ছিলনা। হঠাৎ যুবক বলিয়া উঠিল চাচা! আমার মা দোযখের আজাব হইতে নাজাত পাইয়াছে। কুরতবী (রা:) বলেন কেচ্ছা দ্বারা আমার দুইটি জ্ঞান হাসিল হইলো। প্রথমত সত্তর হাজার বার কালেমা পড়ার বরকত।
দ্বিতীয়ত যুবকের কাশফের সত্যতাও প্রমানিত হইল।
(ফাজায়েলে আমলের জিকির অধ্যায়! ৩৫৪পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)
এই ঘটনা থেকে আমরা জানতে পারলাম:-শায়খ আবু কুরতবী সাহেব বলেন আমি শুনেছি, যে ব্যাক্তি সত্তর হাজার বার কালেমা পড়িবে বলে উল্লেখ্য আছে। তা কুরতবী সাহেব কোথা থেকে এমন কথা শুনেছেন তার উল্লেখ্য নেই। কোন হাদিসের কিতাবেই এমন কথা পাওয়া যায়না। তাহলে কুরতবী সাহেব এই আমলের কোথা পেলেন?
(তার মানে বানোয়াট) কাশফের মাধ্যমে জান্নাত জাহান্নাম দেখা,যা আল্লাহ গায়েবি(অদৃশ্য) করে করে রেখেছেন তার পর্যবেক্ষন করে নিজ মাকে জাহান্নামে দেখা এবং মাগফিরাত(ক্ষমা) দেখা এ গুলো সব ইলমে গায়েব অর্থাৎ অদৃশ্য জগতের কথা নয় কি? অথচ ঐ যুবক কাশফের মাধ্যমে জানতে পারলো।



আমাদের জবাব 
এখানে দুটি বিষয়


: প্রথমত 70 হাজার বার লা ইলাহা ইল্লাহ পড়লে কবরের আযাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, একথাটি ইমাম আবূ ইয়াযীদ কুরতুবী (রহ.) কোথা থেকে পেয়েছেন?

: দুনিয়া থেকে জান্নাত জাহান্নাম দেখা সম্ভব কি না? চাই তা কাশফের মাধ্যমে হোক অথবা স্বপ্বের মাধ্যমে অথবা অন্য কোন ভাবে হোক।

আসুন এখন আমরা শুধু 70 হাজার বারের তাহকীক করবো এ বিষয়টি কোথা থেকে আসছে এবং এর সত্যতা কতটুকু? আর দ্বিতীয় বিষয়টি আমার অন্য পর্বে আসছে, ইনশাআল্লাহ
সত্তর হাজার বারের এই নিয়ম সর্ব প্রথম চালু করেছেন আল্লামা ইবনুল আরবী (রহ.)। দেখুন এর বাস্তবতা-

বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

প্রত্যেক বিষয়ের উপর আকাবেরে দেওবন্দ এর লিখিত পুস্তিকা সমূহের লিষ্ট


                               علماء دیوبند اور ان کے علمی آثار

প্রত্যেক বিষয়ের উপর আকাবেরে দেওবন্দ এর লিখিত পুস্তিকা সমূহের লিষ্ট


علماء دیوبند نے تفسیرقرآن ، شرح حدیث ، اصول فقہ ، فقہ حنفی ، فرائض ، توحید وعقائد، سیرت وآداب ، اوردیگر علوم وفنون میں ، نیز فرق باطلہ ،عیسائیت ، ملاحده ، دہریت ، قادیانیت ومرزائیت ، شیعہ وروافض ، نیز دین متین کی حفاظت ، مبتدعین کی رد ، اور غیر مقلدین کی بعض سینہ زوریوں کی تردید میں جو کتابیں تالیف کی ہیں ان کی تعداد دو ہزار سے زائد ہیں ، جن میں چهوٹے رسائل سے لے کر کئ کئ جلدوں پر مشتمل ضخیم کتابیں شامل ہیں ، اور یہ مقدار صرف اکابر ومشائخ کی تالیفات کی ہے ، دارالعلوم دیوبند کے دیگر فضلاء و منتسبین کی تالیفات مزید برآں ہیں ، ان تمام کتابوں کی صرف نام کی تفصیل کے لیئے بهی ایک مستقل کتاب ودفتر درکار ہے ، ان اکابر میں سے صرف ایک مصنف حكيم الأمـة مجدِد المـلة حضرت الإمـام أشرف على تهانوى نورالله مرقده کی تصنیفات ایک ہزار سے زائد ہیں ، ان میں سے بعض کتابوں کی دو ۲ سے لے کر باره ۱۲ تک جلدیں ہیں ، یہاں تک کہ حكيم الأمـة رحمه الله کثرت تالیفات میں شیخ جلال الدین سیوطی رحمه الله سے بهی فائق ہیں ، اور اگر میں یہ کہوں تو کوئی مبالغہ نہیں ہو گا کہ حكيم الأمـة رحمه الله کی کتابیں اتقان وتحقیق میں شیخ سیوطی رحمه الله کی کتابوں سے بهی فائق ہیں ، ہاں شیخ سیوطی رحمه الله کی وسعت معلومات اور حیرت افزا تبحر بهی مُسَلم ہے ، اور حكيم الأمـة رحمه الله کی کتابیں اردو اور عربی دونوں میں ہیں ، پهر ان تالیفات کے علاوه حكيم الأمـة رحمه الله کے وه مواعظ وملفوظات بهی ہیں ، جن میں بہت سے علوم ومعارف اور بلند پایہ تحقیقات ہیں ، اب میں صرف اکابر علماء دیوبند کی کتب کا اجمالی تذکره کرتا ہوں

قرآن مجید سے متعلق علماء دیوبند کی علمی آثار


1 = ترجمة القرآن بزبان اردو . شیخ الہند مولانا محمود حسن دیوبندی رحمه الله ، اس پر عجیب وغریب فوائد تحریر کرنے کا سلسلہ شروع کیا تها مگر اس کی تکمیل نہ ہو سکی
2 = تکمله فوائد شیخ الهند . شیخ الإسلام شبير أحمد عثماني رحمه الله ، سوره آل عمران اور سوره مائده سے آخر قرآن تک
3 = تفسیر بیان القرآن ۱۲حصص . حكيم الأمـة أشرف علي تهانوي رحمه الله ، یہ مبارک تفسیر نفائس جلیلہ وفوائد قَیّمہ اور انتہائی نادر ابحاث پر مشتمل ہے ، اور اردو زبان میں لکهے گئے اہم تفاسیر میں سے ہے
4 = خلاصة تفسیر بیان القرآن . حكيم الأمـة أشرف علي تهانوي رحمه الله
5 = فتح المنّان فی تفسیر القرآن . مولانا عبدالحق دہلوی دیوبندی رحمه الله ، یہ تفسیر آٹھ ضخیم جلدوں میں اردو وعربی دونوں زبانوں کے أبحاث پر مشتمل ہے
6 = ألبیان فی علوم القرآن . یہ بهی مولانا عبدالحق رحمه الله کی عمده کتاب ہے
7 = مُشكِلات القرآن . إمام العصر الشيخ أنورشاه الكشميري ، یہ کتاب عربی زبان میں ہے، انتہائی اعلی ابحاث پر مشتمل ہے
8 = إعجاز القرآن . شيخ الإسلام شبير أحمد عثماني ديوبندي رحمه الله
9 = ترجمه قرآن مع فوائد تفسیریه . اردو زبان میں ، مولانا عاشق الہی میرٹهی رحمه الله
10 = حاشیه تفسیر البیضاوی . عربی زبان میں ، مولانا عبدالرحمن اَمروہی رحمه الله

নামাযের মাঝে নারী পুরুষের ভিন্নতা. .... 3য় পর্ব

February 2, 2015 at 9:59pm
❀ 3য় পর্ব ❀ 





দেখুন হাদীস ও আসারের আলোকে নারী পুরুষের নামাযের মাঝে পার্থক্য ✪  


  ✔ আজকের আলোচনা সরাসরী রাসূল (সা.) এর নির্দেশ বা সংশোধন যে, মহিলারা  জড়সড় হয়ে অঙ্গের সাথে অঙ্গ মিলিয়ে নামায আদায় করবে। (পুরুষদের বেতিক্রম) ।  

❀ পুরুষেরা যেমন নামাযের মাঝে জড়সড় হয়ে নামায আদায় করেন না, অর্থাৎ এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গ পৃথক রাখে। কিন্তু এই বিধানটি মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বরং মহিলারা  জড়সড় হয়ে অঙ্গের সাথে অঙ্গ মিলিয়ে নামায আদায় করবে  এ বিষয়ে সরাসরী রাসূল (সা.) এর নির্দেশ বা সংশোধন এর দলীল-


المراسيل لأبي داود (ص: 117) 87   - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ غَيْلَانَ [ص:118]، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى امْرَأَتَيْنِ تُصَلِّيَانِ فَقَالَ: «إِذَا سَجَدْتُمَا فَضُمَّا بَعْضَ اللَّحْمِ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ لَيْسَتْ فِي ذَلِكَ كَالرَّجُلِ»


‘‘হযরত ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব (রহ.) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশ্যে) বললেন, যখন সিজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে। কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষদের মত নয়।’’ 

কিতাবুল মারাসিল, লিল ইমাম আবূ দাঊদ, পৃ.-117 হাদীস নং-87, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী-2/315, হাদীস-৩২০১ , মারেফাতুস সুনানে ওয়াল আসার লিল বায়হাকী-3/336, হাদীস নং-1০৫0)

 হযরত ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব হলেন, একজন নির্ভরযোগ্য তাবেয়ী, তিনি 93 হিজরীতে জন্ম গ্রহণ করেন এবং 128 হিজরীতে মৃতু বরণ করেন। দেখুন তাহযীবুত তাহযীব-11/318, সিলসিলাতু আহাদীসিস যয়ীফা-6/163 হাদীস নং-2652। 

নামাযের মাঝে নারী পুরুষের ভিন্নতা......02 পর্ব

2য় পর্ব: সব মহলে সালাফীদের উগ্রতা * নামাযের মাঝে নারী পুরুষের ভিন্নতা

January 31, 2015 at 1:31am
2য় পর্ব
 সব মহলে সালাফীদের উগ্রতা * নামাযের মাঝে নারী পুরুষের ভিন্নতা



 দেখুন হাদীস  আসারের আলোকে নারী পুরুষের নামাযের মাঝে পার্থক্য 




  ✔ আজকের আলোচনা মহিলারা  জড়সড় হয়ে অঙ্গের সাথে অঙ্গ 

মিলিয়ে নামায আদায় করবে। (পুরুষদের বেতিক্রম)




❀ পুরুষেরা যেমন নামাযের মাঝে জড়সড় হয়ে নামায আদায় করেন না, অর্থাৎ এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গ পৃথক রাখে। কিন্তু এই বিধানটি মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বরং মহিলারা  জড়সড় হয়ে অঙ্গের সাথে অঙ্গ মিলিয়ে নামায আদায় করবে। দলীল-


السنن الكبرى للبيهقي (2/ 315)
3199 – حدثنا ابو مُطِيعٍ الْحَكَمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْبَلْخِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ ذَرٍّ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا جَلَسَتِ الْمَرْأَةُ فِي الصَّلَاةِ وَضَعَتْ فَخِذَهَا عَلَى فَخِذِهَا الْأُخْرَى، وَإِذَا سَجَدَتْ أَلْصَقَتْ بَطْنَهَا فِي فَخِذَيْهَا كَأَسْتَرِ مَا يَكُونُ لَهَا، وَإِنَّ اللهَ تَعَالَى يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَيَقُولُ: يَا مَلَائِكَتِي أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهَا "

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেছেন, মহিলারা যখন নামাযের মধ্যে বসবে তখন যেন (ডান) উরু অপর উরুর উপর রাখে। আর যখন সিজদা করবে তখন যেন পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে; যা তার সতরের জন্য অধিক উপযোগী। আল্লাহ তায়ালা তাকে দেখে (ফেরেশতাদের সম্বোধন করে) বলেন, ওহে আমার ফেরেশতারা! তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম।’’ সুনানে কুবরা, বায়হাকী 2/223, অধ্যায় : সালাত, পরিচ্ছেদ : باب مَا يُسْتَحَبُّ لِلْمَرْأَةِ مِنْ تَرْكِ  التَّجَافِى فِى الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ. মহিলার জন্য রুকূ ও সিজদায় এক অঙ্গ অপর অঙ্গ থেকে পৃথক না রাখা মুস্তাহাব। হাদীসটি তারিখে আসবাহান এর 01/200 এবং কানযুল উম্মাল-7/549, হাদীস নং-20203 উল্লেখ রয়েছে।


 এই হাদীসটি হাসান তথা প্রমাণ যোগ্য। কারণ এই হাদীসটির সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
এ ছাড়াও এর সমর্থনে  আরো কিছু হাদীস রয়েছে,পক্ষান্তরে এগুলোর সাথে বিরোধপূর্ণ
একটি হাদীস কোথাও পাওয়া যায় না।

নামাযের মাঝে নারী পুরুষের ভিন্নতা.....01 পর্ব

সব মহলে সালাফীদের উগ্রতা * নামাযের মাঝে নারী পুরুষের ভিন্নতা

January 30, 2015 at 1:29am
সব মহলে সালাফীদের উগ্রতা * নামাযের মাঝে নারী পুরুষের ভিন্নতা

❀ বর্তমানে আমাদের কিছু সালাফী ভাইদেরকে দেখা যায়, যারা সব মহলে এ কথা বলছে যে, নারী পুরুষের নামাযের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। আর পাথক্য এর বিষয়ে যে সব হাদীসগুলো পেশ করা হয় সব হাদীসই না কি জাল আর যয়ীফ!! তাই আমি আমার ছোট একটি গবেষনা আপনাদের সামনে ব্যক্ত করছি, আসলে নারী পুরুষের নামাযের মাঝে কোন পার্থক্য আছে কি নেই?

 প্রথমত নামাযের মাঝে কি পার্থক্য আছে, তা বর্ণনা করার পূর্বে আমি উল্লেখ করবো শরীয়তের অন্য কোন বিধান এর মাঝেও কি নারী পুরুষের পার্থক্য আছে? না শুধু নামাযের মাঝে? অতএব প্রিয় পাঠক আপনি দেখুন শরীয়তের অন্য আহকামের মাঝেও নারী পুরুষের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। যেমন-

এমন কি দোয়া যা পড়লে পাহাড়ও স্থানচ্যুত হয়ে যায়......

এমন কি দোয়া যা পড়লে পাহাড়ও স্থানচ্যুত হয়ে যায় অথবা নড়ে যায় 
আরোও অনেক ফযীলত....... ✔

مجمع الزوائد ومنبع الفوائد (5/ 115)
8469 - وَعَنْ حَنَشٍ الصَّنْعَانِيِّ، «عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَرَأَ فِي أُذُنِ مُبْتَلًى، فَأَفَاقَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: " مَا قَرَأْتَ فِي أُذُنِهِ؟ " قَالَ: قَرَأَتُ: (أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا)، حَتَّى فَرَغَ آخِرُ السُّورَةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: " لَوْ أَنَّ رَجُلًا مُوقِنًا قَرَأَ بِهَا عَلَى جَبَلٍ لَزَالَ».

 
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একদা (জ্বীনে আক্রান্ত) বেহুশ এক রোগির কানে (একটি দোয়া) পড়লো, অতপর সে রোগী সাথেসাথে সুস্থ হয়ে গেলো। রাসূল (সা.) এ দৃশ্য দেখে বললেন, তুমি তার কানে কি পড়লে? তিনি বললেন আমি কোরআনে কারীমের আয়াত-
{ أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ (115) فَتَعَالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ (116) وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِنْدَ رَبِّهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ (117) وَقُلْ رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ (118) } [المؤمنون: 115 - 118] সূরায়ে মু’মিনুন 115 থেকে শেষ পযন্ত তেলাওয়াত করেছি। অতপর রাসূল (সা.) তাকে বললেন, যদি কোন কোন ঈমানদার ব্যক্তি বিশ্বাস এর সহিত এই আয়াতগুলো কোন পাহাড়ের উপর পড়ে তা হলে ঐ পাহাড় স্থানচ্যুত অথবা নড়ে যাবে। (সুবহানাল্লাহ)

 
✏ প্রমাণসূত্র : মাজমাউজ যাওয়ায়েদ-5/115, হাদীস নং-8469, আদ দোয়উ লিত তাবরানী-1/331, হাদীস-1081,আমালুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলা লি ইবনেস সুন্নি-1/585, হাদীস-631, আদ দাওয়াতুল কাবীর লিল বায়হাকী-2/231, হাদীস-594,

উল্লেখিত হাদীসটি হাসান তথা প্রমাণযোগ্য। আল্লাম সূয়ূতী (রহ.) ও ইবনে হাজার (রহ.) ও আল্লামাম হায়সামী (রহ.)সহ একাধীক ইমামগণ উল্লেখিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আল ফুতুহাতুর রাব্বানিয়া-4/45, আন নুকাত আলাল মাওজুয়াত-63।

✪✿ অন্য বর্ণনায় আছে উল্লেখিত আয়াতগুলো যদি কোন যুদ্ধে যাওয়ার পূবে পড়া হয় তাহলে ঐ যুদ্ধ থেকে সকল মানুষ গনিমতসহকারে নিরাপদে ফিরে আসবে। নাতায়েজুল আফকার-2/406, তাফসীরে আবূ হাতেম-8/2013, ইবনে কাসির-5/501 ইত্যাদি।

✪✿ অন্য বর্ণনায় আছে কোন ব্যক্তি নৌকায় উঠার পর যদি উক্ত আয়াতগুলো পড়ে তাহলে ঐ নোকা কখনো ডুববে না। (সুবহানাল্লাহ)
দেখুন- তাফসীরে আবূ হাতেম-8/2013, ইবনে কাসির-5/501 ইত্যাদি।

প্রিয় পাঠক বৃন্দু তাহলে আসুন আর বিলম্ব না করে আমরা আজ থেকে সূরায়ে মুমিনুন এর 15 আয়াত থেকে শেষ পর্যন্ত মুখস্ত করে নি, যার দ্বারা জ্বীনে আক্রান্ত রোগী, বেহুশ মানুষ এর জ্ঞান ফিরে আসা, নৌকায় নিরাপদে ভ্রমনসহ অনেক সমস্যার সমাধান পাওয়া যাচ্ছে ।
উল্লেখ্য যে, যে সব ভাইগণ সব ধরনের ঝাড়ফুককে শিরক মনে করেন তারা উক্ত হাদীসের কি জবাব দিবেন?

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন

❀ ইতি মুফতী মো. ছানা উল্লাহ

সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

এমন দোয়া যা পড়লে ফেরেশতার কলম বন্ধ হয়ে যায়।


এমন দোয়া যা পড়লে ফেরেশতার কলম বন্ধ হয়ে যায়।


দেখুন এমন একটি দোয়া, যা পড়লে ফেরেশতার কলম বন্ধ হয়ে যায়। (আল্লাহু আকবার) সম্পর্ণ দোয়া ও গঠনা সহীহ হাদীসের আলোকে-.

.
سنن ابن ماجه (2/ 1249)
3801 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ بَشِيرٍ، مَوْلَى الْعُمَرِيِّينَ، قَالَ: سَمِعْتُ قُدَامَةَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ الْجُمَحِيَّ، يُحَدِّثُ أَنَّهُ كَانَ يَخْتَلِفُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَهُوَ غُلَامٌ وَعَلَيْهِ ثَوْبَانِ مُعَصْفَرَانِ، قَالَ: فَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَهُمْ: " أَنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِ اللَّهِ قَالَ: يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلَالِ وَجْهِكَ وَلِعَظِيمِ سُلْطَانِكَ، فَعَضَّلَتْ بِالْمَلَكَيْنِ، فَلَمْ يَدْرِيَا كَيْفَ يَكْتُبَانِهَا، فَصَعِدَا إِلَى السَّمَاءِ، وَقَالَا: يَا رَبَّنَا، إِنَّ عَبْدَكَ قَدْ قَالَ مَقَالَةً لَا نَدْرِي كَيْفَ نَكْتُبُهَا، قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا قَالَ عَبْدُهُ: مَاذَا قَالَ عَبْدِي؟ قَالَا: يَا رَبِّ إِنَّهُ قَالَ: يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلَالِ وَجْهِكَ وَعَظِيمِ سُلْطَانِكَ، فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُمَا: «اكْتُبَاهَا كَمَا قَالَ عَبْدِي، حَتَّى يَلْقَانِي فَأَجْزِيَهُ بِهَا»

অর্থাত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে একজন বান্দা বলেছিলেন-
 يَا رَبِّ إِنَّهُ قَالَ: يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلَالِ وَجْهِكَ وَعَظِيمِ سُلْطَانِكَ 
অতপর তার সাথের দুই ফেরেস্তা বিকল হয়ে গেল, তারা বুঝতে পারছিল না যে, কি করে এই দোয়ার ফযীলত লিখা হবে!! তারা আাকশে ছড়লো, এবং  দুইজন আল্লাহকে বললো, হে আমাদরে প্রতিপালক, আপনার এক বান্দা এই এই .... কথা গুলো বলেছে, আমরা জানিনা কি ভাবে তার ফযীলত লিখবো? মহান আল্লাহ তায়ালা সর্ব বিষয়ে জানা সত্তেও তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার বান্দা কি বলেছে? তার বললো সে বলেছে, (এই দোয়া)
 يَا رَبِّ إِنَّهُ قَالَ: يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلَالِ وَجْهِكَ وَعَظِيمِ سُلْطَانِكَ 
অতপর আল্লাহ তায়ালা ঐ দুই ফেরেশতাকে বললেন, আমার বান্দা যা বলেছে, তোমরা সেই শব্দগুলোকে (হুবহু) লিখে রাখ, যখন আমার বান্দা আমার সাথে সাক্ষাত করবে, তখন আমি নিজেই তাকে বিনিময় দান করবো। সুবহানাআল্লাহ

  প্রিয় পাঠক আপনারা সকলই এই দোয়াটি মুখস্ত করে প্রত্যেহ পড়ার চেষ্টা করুন, আল্লাহ তায়ালা সকলকে তাওফীক দান করুন। আমীন

প্রমান সূত্র : ইবনে মাজা হাদীস নং : 3801, শুয়াবুল ঈমান হা. 4077, আল মুজামুল কাবীর লিত তাবরানী হা.13297, আদ দোয়ায়ু লিত তাবরানী হা.1708, আল মুজামুল আওসাত : 9249, ফাযীলাতুশ শুকরে লিল্লাহ আলা নিয়মাতিহি হা. 10, এছাড়াও আরা অসংখ্য কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। এবং হাদীসটি সহীহ।

ইতি মুফতী মো, সানা উল্যাহ