বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৫

সুদখোর ইমামের পিছনে নামাজ হবে কি না?

সুদখোর ইমামের পিছনে নামাজ হবে কি না? 
❖ প্রশ্ন : সুদখোর ইমামের পিছনে নামাজ হবে কি না? ও তার পিছনে ইক্তিদা করা জায়েজ কি না? কোরআন হাদীস থেকে দলীলসহ জানাবেন।

❖ জবাব : যে ইমাম সুদ খায় সে হলো ‘‘ফাসেক’’ অর্থাৎ পাপাচারী, আর ফাসেক এর পিছনে নামায পড়া মাকরূহে তাহরীমি অর্থাৎ হারামের কাছাকাছি। তাই অকাট্য সমস্যা না হলে এধরনের ইমামের পিছনে নামায পড়া পরিহার করা আবশ্যক। নিন্মে দলীল সহ বিস্তারিত দেখুন।

ইহকালের ফেৎনা ছাড়িয়ে পরকালে এখন সালাফীগণ !

ইহকালের ফেৎনা ছাড়িয়ে পরকালে এখন সালাফীগণ !

❖ প্রশ্ন : আমাদের কতক আহলে হাদীস ভাই বলে থাকেন, প্রচলিত নিয়ম অনুসারে ‘‘মৃত ব্যক্তিকে কবরে রেখে যখন মাটি দেয়া হয়, তখন সাধারণ ভাবে তিন ধাপে মাটি দেয়া হয় ও পবিত্র কোরআনের {مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى} [طه: 55] সূরা ত্বহা এর ৫৫ নং আয়াতটি পড়া হয়’’ এ আমলটির নাকি কোন ভিত্তি নেই? আহলে হাদীস ভাইদের মহাগুরু শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী তার রচিত কিতাব ‘আহকামুল জানায়েয’’ এর ১৫৩ নং পৃষ্ঠায়ও উক্ত আমলটির ভিত্তি নেই বলে উল্লেখ করেছেন। এখন জানার বিষয় হলো আসলে কি এর কোন ভিত্তি আছে কি নেই ?

❖ জবাব : উক্ত আমলটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং এর সম্পূর্ণ ভিত্তি রয়েছে। নিন্মে বিস্তারিত আলোচনা দেখুন।

#এখানে দুটি বিষয় আলোচনাযোগ্য (১) তিন ধাপে মাটি দেয়া (২) মাটি দেয়ার (ফাযায়েলের প্রতি লক্ষ রেখে) সময়ে সূরা ত্বহার ৫৫ নং আয়াত مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى পড়া।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৫

‘‘নাফস বা আত্মার জিহাদ বড় জিহাদ’’ এ মর্মের হাদীসগুলো কি মাওজু তথা বানানো?


‘‘নাফস বা আত্মার জিহাদ বড় জিহাদ’’ এ মর্মের হাদীসগুলো কি মাওজু তথা বানানো?

❖ প্রশ্ন : ‘‘নাফস বা আত্মার জিহাদ বড় জিহাদ’’ এ মর্মের হাদীসগুলো কি মাওজু তথা বানানো? বিস্তারিত জানালে ভালো হয়।

❖জবাব : উক্ত মর্মে বিভিন্ন ধরনের হাদীস রয়েছে, তাই সরাসরি মাওজু তথা বানানো বলা কখনো ঠিক হবে না। কেননা এর দ্বারা রাসূল (সা.) এর হাদীসকে অস্বীকার করা হবে। (আর আমাদের অনেক ভাই স্বল্প জ্ঞানের কারণে উক্ত মর্মের সকল হাদীসকে ঢালাও ভাবে মাওজু তথা বানানো বলে আখ্যা দিয়ে যাচ্ছে, যা তাদের জন্য কখনো ঠিক না)।

✏ যেমন দেখুন নিন্মে এ মর্মের তিনটি বর্ণনা উল্লেখ করা হলো।

░▒▓█►০১ নং হাদীস যা ইমাম বায়হাকী তার রচিত কিতাব ‘‘আযযুহদুল কাবীর’’ এর মাঝে উল্লেখ করেছেন: ◄█▓▒░
الزهد الكبير للبيهقي (ص: ১৬৫)
৩৭৩ - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا تَمْتَامٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَوْمٌ غُزَاةٌ، فَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " قَدِمْتُمْ خَيْرَ مَقْدَمٍ مِنَ الْجِهَادِ الْأَصْغَرِ إِلَى الْجِهَادِ الْأَكْبَرِ. قَالُوا: وَمَا الْجِهَادُ الْأَكْبَرُ؟ قَالَ: مُجَاهَدَةُ الْعَبْدِ هَوَاهُ ". هَذَا إِسْنَادٌ ضَعِيفٌ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৫

খুতবা চলাকালীন সময়ে তাহইয়াতুল মসজিদ, কথা বলা ইত্যাদি নিষেধের দলীল ২য় পর্ব

খুতবা চলাকালীন সময়ে তাহইয়াতুল মসজিদ, কথা বলা ইত্যাদি নিষেধের দলীল
 ২য় পর্ব 
░▒▓█►হযরত সুলায়ক  গাতফানী (রা.) এর ঘটনা◄█▓▒░
প্রশ্নের মধ্যে হযরত সূলায়ক গাতফানী (রা.) এর যে ঘটনার বরাত দেয়া হয়েছে সে সম্বন্ধে কতিপয় বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরী।

✏ ১। পূর্বে এ বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে যে, কুরআন মাজীদ খুতবা শ্রবণ করা ও নিশ্চুপ থাকাকে ফরয সাব্যস্ত করেছে। আর রসূলুল্লাহ (সা.) এর মুতাওয়াতির হাদীছসমূহেও উক্ত বিষয়টিরই তাকীদ বর্ণিত হয়েছে। খুলাফায়ে রাশিদীন (রা.), অর্ধিকাংশ সাহাবায়ে কিরাম (রা.) ও তাবেঈন (রহ.) কুরআন ও সুন্নতের উক্ত অকাট্য প্রমাণসমূহ সম্মুখে রেখে খুতবা পাঠকালে সালাত এবং কালাম তথা কথাবার্তা সমর্থক ছিলেন না। আর এটাই স্পষ্ট যে, সুলায়ক গাতফানী (রা.) এর ঘটনা তাদের জানা ছিল। কেননা আমরা তো উক্ত ঘটনা রিওয়ায়তের মাধ্যমে অবগত হয়েছি কিন্তু উল্লিখিত আকাবিরে হযরাত উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। কেননা ঘটনাটি জুমুআর নামাযের গণসমাবেশ স্থলে ঘটেছিল। আর রসূলুল্লাহ (সা.) হযরত সুলায়ক (রা.) কে উদ্দেশ্য করে যা কিছু ইরশাদ করেছেন, তা মিম্বরের উপর থেকেই করেছিলন। কাজেই উক্ত ঘটনার এ ব্যাখ্যা করার অবকাশ নেই যে, হযরত সাহাবায়ে কিরাম (রা.) উক্ত ঘটনা এবং রসূলুল্লাহ (সা.) এর সে সম্পর্কিত ইরশাদের ইলম ছিল না।

খুতবা চলাকালীন সময়ে তাহইয়াতুল মসজিদ, কথা বলা ইত্যাদি নিষেধের দলীল ১ম পর্ব

খুতবা চলাকালীন সময়ে তাহইয়াতুল মসজিদ, কথা বলা ইত্যাদি নিষেধের দলীল
 ১ম পর্ব 
 ❖ প্রশ্ন -: আমাদের এখানে খুতবা সম্পর্কিত আহকামে বলা হয়ে থাকে যে, যখন ইমাম খুতবা পাঠের জন্য মিম্বরে বসেন, তখন নামায পড়া যাবে না আর না কোন কথা, এমনকি মুখদ্বারা অন্য কাউকে বারণ করাও নিষেধ, বরং দু’আ, দরূদও জিহ্বা না নাড়িয়ে মনে মনে পড়ে নিতে হবে। অথচ হাদীছসমূহের বরাতে এ বিষয়টি প্রমাণ করা হয় যে, যদি কেউ এমন অবস্থায় মসজিদে উপস্থিত হয় যে, ইমাম খুতবা পড়ছেন, তাহলে সে হালকাভাবে দু’ রাকআত পড়ে বসে যাওয়া বাঞ্ছনীয়। আর এ সম্বন্ধে সহীহ মুসলিম, ইবনে মাজাহ, এবং আবূ দাউদ শরীফের বরাতে সুলায়ক গাতফানী (রা.) এর ঘটনা নকল করা হয় যে, যখন তিনি খুতাব দেয়াকালীন সময়ে মসজিদে আসেন এবং দু’ রাকআত নামায আদায় না করে বসে গেলেন তখন রসূলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তুমি কি দু’ আকআত নামায পড়ে বসেছো? এর নেতিবাচক জবাবে তিনি ইরশাদ করলেন উঠ, এবং দু’ রাকআত আদায় করে বস। অতঃপর লোকদেরকে সম্বোধন করে তিনি ইরশাদ করলেন, যে কেউ এমন সময়ে মসজিদে উপস্থিত হয়, সে যেন হালকাবাবে দু’ রাকআত পড়ে বসে।

গ্রামে জুমুআ আদায় নিষেধের দলীল

গ্রামে জুমুআ আদায় নিষেধের দলীল
✿ প্রশ্ন : আমাদের মাযহাব মতে জুমুআর নামাযের শর্তসমূহের একটি শর্ত হলো শহর হওয়া। গ্রামে ও বস্তিতে জুমুআ সহীহ হয় না। কিন্তু এর মুকাবালায় হাদীছসমূহের মাধ্যমে জুমুআ হুকুমকে ব্যাপক প্রমাণিত করা হয় এবং আমাদেরকে জুমুআর ফরযের অস্বীকারকারী বলে গণ্য করা হয়। এ প্রসঙ্গে যে সব হাদীছ পেশ করা হয় তা নিন্মে প্রতত্ত হলো।
আবূ দাউদ শরীফের বরাতে এই শব্দ সমূহে নকল করা হয় যে-
الجمعة حق واجب على كل مسلم فى جماعة*

অর্থাৎ ‘জুমুআ হক, প্রত্যেক মুসলমানের উপর জামাতের সঙ্গে জুমুআর নামায আদায় করা ওয়াজিব।’’
দারা কুতনীর হাদীছে আছে : 
من كان يؤمن بالله واليوم الاخر فعليه الجمعة يوم الجمعة*

অর্থাৎ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও আখিরাতের উপর বিশ্বাস রাখে তার উপর জুমুআর দিন জুমুআর নামায আদায় করা অপরিহার্য।’’

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৫

সমস্ত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সুলাইমান (আ.) এর যিয়াফত

সমস্ত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সুলাইমান (আ.) এর যিয়াফত
(জাল বা ভিত্তিহীন কাহিনীর কবলে ঈমানের মেহনত)

❖ প্রশ্ন : আমাদের দেশে বিভিন্ন বক্তা ও সাধারণ মানুষ, আল্লাহ তায়ালা কত বড় রিযিক দাতা সে কথাটি বুঝাতে গিয়ে (ঈমান বৃদ্ধির লক্ষে) নিন্ম ঘটনাটি উল্লেখ করে থাকে। আমার জানার বিষয় হলো উক্ত ঘটনাটি কতটুকু সঠিক?

✏ হযরত সুলাইমান (আ.) একবার আল্লাহকে বললেন, হে আল্লাহ আমি সকল সৃষ্টিজীবকে এক বছর খাওয়াতে চাই। আল্লাহ বললেন, হে সুলাইমান তুমি তা পারবে না। তখন সুলাইমান (আ.) বললেন, আল্লাহ! তাহলে এক সপ্তাহ। আল্লাহ বললেন, তুমি তাও পারবে না। সুলাইমান (আ.) বললেন, তাহলে একদিন। আল্লাহ বললেন, হে সুলাইমান তুমি তাও পারবে না। একপর্যায়ে আল্লাহ এক দিনের অনুমতি দিলেন। সুলাইমান আলাইহিস সালাম জিন ও মানুষকে হুকুম করলেন, পৃথিবীতে যত প্রকার খাদ্য শস্য আছে এবং হালাল যত প্রকার প্রাণী আছে সব হাযির কর। তারা তা করল। এরপর বিশাল বিশাল ডেগ তৈরী করা হল এবং রান্না করা হল। তারপর বাতাসকে আদেশ করা হল, সে যেন খাদ্যের উপর দিয়ে সদা প্রবাহিত হতে থাকে যাতে খাবার নষ্ট না হয়। তারপর খাবারগুলো সুবিস্তৃত যমিনে রাখা হল। যে যমিনে খাবার রাখা হল তার দৈর্ঘ্য ছিল দুই মাসের পথ। খাবার প্রস্তুত শেষ হলে আল্লাহ বললেন, হে সুলাইমান! কোন প্রাণী দিয়ে শুরু করবে? সুলাইমান আ. বললেন, সমুদ্রের প্রাণী দিয়ে। তখন আল্লাহ সাগরের একটি বড় মাছকে বললেন, যাও সুলাইমানের যিয়াফত খেয়ে এস। তখন মাছটি সমুদ্র থেকে মাথা উঠিয়ে বললো, হে (আল্লাহর নবী) সুলাইমান, আপনি নাকি যিয়াফতের ব্যবস্থা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এইতো খাবার প্রস্তুত তুমি শুরু কর। তখন সে খাওয়া শুরু করল এবং খেতে খেতে খাবারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পৌছে গেল। সব খাবার শেষ করে ফেলল। তারপর বলল, আমাকে আরো খাবার দিন, আমি এখনও তৃপ্ত হইনি। তখন সুলাইমান (আ.) বললেন, তুমি সব খাবার খেয়ে ফেলেছ তাও তোমার পেট ভরেনি। তখন মাছ বলল, মেজবান কি মেহমানের সাথে এভাবে কথা বলে? হে (আল্লাহর নবী) সুলাইমান! শুনে রাখুন, আমার রব আমাকে প্রতিদিন এর তিন গুণ খাবার দেন। আজ আপনার কারণে আমাকে কম খেতে হল। এ কথা শুনে সুলাইমান (আ.) সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন...।